বিদায়ী বছরের শেষ প্রান্তিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমে গেছে। এ সময়ে টাকার অঙ্কে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৫০ শতাংশেরও বেশি, বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৩৩ শতাংশের মতো। তবে উভয় ক্ষেত্রেই নিবন্ধিত শিল্পের সংখ্যা বেড়েছে। অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে অপেক্ষাকৃত কম মূলধনী কোম্পানির প্রস্তাব নিবন্ধন হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ-বিডা গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বরে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কমলেও ২০১৮ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় বেশ বেড়েছে। ২০১৮ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিকে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ৫৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
বিডার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে মোট ৩১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এতে মোট ৫১ হাজার ৭০৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ৫০ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের প্রান্তিকের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭০টি বাড়লেও বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ২২ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। এটি জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। বিডার তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে শতভাগ স্থানীয় বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত ২৫৭টি শিল্প ইউনিটে প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ২০৫টি ইউনিটে প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে, আগের প্রান্তিক বিবেচনায় শেষ প্রান্তিকে ইউনিট সংখ্যা ৫২টি বেশি হলেও প্রস্তাবিত বিনিয়োগ কমেছে ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে ২০১৮ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ৩৪টি বিদেশি ও ২৮টি যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাবে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে ৪৪টি নিবন্ধিত শিল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের প্রান্তিকের চেয়ে শেষ প্রান্তিকে শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ১৮টি বাড়লেও বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৩২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ৫৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
