পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ ফেরতের প্রস্তাব

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:২৫ এএম

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ ফেরত দিতে চায় সেতু বিভাগ। এ জন্য চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এই প্রকল্পের বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। কাক্সিক্ষত হারে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি না হওয়ায় এই বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ। সম্প্রতি সেতু বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয় ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। বছরের মাঝপথে এসে এই অর্থ ব্যয় করতে না পারায় সংশোধিত এডিপিতে সেতু বিভাগের এ প্রকল্পে ৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকা এবং এ সময় পর্যন্ত অর্থছাড় হয়েছে ২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাস্তবায়ন হয়েছে বরাদ্দের ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণের কাজ হয়েছে ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, নদীশাসনের কাজ হয়েছে ৬৬ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ। কিন্তু এখন এ কাজ শেষ করতে এক বছর সময় পাওয়া গেছে। এ জন্য চলতি বছরে বরাদ্দ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।’

২০০৭ সালের জুলাই মাসে হাতে নেওয়া প্রকল্পটির কাজ বিশ্বব্যাংক উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য দীর্ঘদিন আটকে ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় ২০১৫ সালে। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সোয়া ছয় কিলোমিটারের মূল সেতু ছাড়াও এ প্রকল্পে সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনের কাজ রয়েছে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মূল পদ্মা সেতু নির্মাণে মূল পিয়ার হবে ৪২টি। নানা জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। এর আগে পরিকল্পনা কমিশনে সেতু বিভাগের পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রকল্পের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এ জন্য নানা ধরনের যুক্তি দেখানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পুনঃনকশা করা অন্যতম। চিঠিতে বলা হয়, প্রতিটি পিয়ারে একটি পাইল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ কারণে আরও ৮টি পিয়ারের পাইল ড্রাইভিং কাজও স্থগিত ছিল। ফলে ২২টি পিয়ার রি-ডিজাইন জরুরি হয়ে পড়ে। সেগুলোর রিডিজাইন শেষ হয়েছে এবং কনস্ট্রাকশন ড্রয়িং ঠিকাদারকে ইস্যু করা হয়েছে। তবে যথাসময়ে ঠিকাদারকে পিয়ারের নকশা ইস্যু করা সম্ভব না হওয়ায় শিডিউল অনুযায়ী নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়। ফলে মূল সেতুর নির্মাণকাজও বিলম্বিত হয়।

তারা আরও জানিয়েছেন, ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে ৭টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক অগ্রগতি ও যথাসময়ে বাস্তবায়নসংক্রান্ত ওয়ার্ক প্ল্যান প্রস্তুত করা, প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র তথ্য-উপাত্তসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা। এ ছাড়া বর্ধিত সময়ে কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা ছাড়াও যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এক অংশের (কাজের অংশ) অর্থ অন্য অংশে ব্যয় করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সময়কাল আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়ে দেয় পরিকল্পনা কমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ কাক্সিক্ষত হারে বাস্তবায়ন করা যায়নি বলেই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন করোনাভাইরাসের কারণে কিছু সমস্যা হতে পারে। কারণ অনেক কর্মকর্তা এখন ছুটিতে রয়েছে। ভাইরাস সমস্যা সমাধান না হলে তারা কবে আসবে কেউ বলতে পারছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত