বিপিএলে ফিক্সিং চেষ্টায় পাকিস্তানি জামশেদের জেল

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৩৪ এএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন। আর পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করেছিলেন ফিক্সিং। এমন অভিযোগে আগেই দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন ৩৩ বছরের পাকিস্তানি ক্রিকেটার নাসির জামশেদ। দুর্নীতির মামলার রায়ে এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ১৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের ম্যানচেস্টারের ক্রাউন কোর্ট। আর তার সঙ্গে ফিক্সিং পরিকল্পনায় জড়িত থাকায় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিক ইউসুফ আনোয়ার ও মোহাম্মদ ইজাজকে যথাক্রমে ৪০ ও ৩০ মাসের জেল দেওয়া হয়েছে। গত বছর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ফিক্সিংয়ের বিভিন্ন অভিযোগে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় জামশেদকে।

জামশেদের আগে ফিক্সিংয়ের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন পাকিস্তানের সেলিম মালিক, সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে জেলে যেতে হয়েছে গুলাম বোদিকে।

ইংল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনসিএ) তদন্তে গত বছর গ্রেপ্তার হন নাসির জামশেদ এবং দুই ব্রিটিশ নাগরিক। জামশেদ ২০১৬ বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন। এজন্য ঘুষও নিয়েছিলেন জুয়াড়িদের কাছ থেকে। কিন্তু সফল হননি। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসএলে জামশেদ নিজে তো ফিক্সিং করেছেনই, প্রলুব্ধ করেন অন্য খেলোয়াড়দেরও। ওই বছর দুবাইয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড এবং পেশোয়ার জালমির ম্যাচে ৩০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু বলে তার রান না নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল জুয়াড়িদের সঙ্গে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে একটি হোটেলে ইউসুফ আনোয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ছদ্মবেশী পুলিশ কর্মকর্তার। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আনোয়ার তখন বলেছিলেন বিপিএলে তার হয়ে ছয়জন ক্রিকেটার কাজ করছে। তবে তারা কারা তা জানা জায়নি।

পাকিস্তানের হয়ে ২টি টেস্ট, ৪৮টি ওয়ানডে ও ১৮ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন জামশেদ। রায়ের পর জামশেদের স্ত্রী ডা. সামারা আফজাল বলেছেন, তার স্বামীর কাজে ভুগবে তার পরিবার। অন্য ক্রিকেটারদেরও সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘নাসিরের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারত যদি সে কঠোর পরিশ্রম করত এবং খেলাটির প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকত। কিন্তু সে শর্টকাট পথ বেছে নিয়েছে। ফলে সে তার ক্যারিয়ার, সম্মান স্বাধীনতা সব হারিয়েছে। ইংল্যান্ডের জাতীয়তা নিয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে পারত। কিন্তু সে সব সুযোগ হারিয়েছে। জামশেদ পেছনে

ফিরে গিয়ে সব ঠিক করতে চাইবে, প্রিয় মেয়েকে হারাতে চাইবে না। কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। আশা করি সব ক্রিকেটার এটাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উদাহরণ হিসেবে নেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত