আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়াতে পর্যন্ত হঠাৎ করেই হামলা চালাতে শুরু করেছে অগুনতি পতঙ্গ। পঙ্গপালের আক্রমণে গোটা আফ্রিকার অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন সতর্কতা ইতিমধ্যেই জারি করেছে জাতিসংঘ। আক্রমণকারী পতঙ্গদের মধ্যে মরুভূমির পতঙ্গরা অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক। মরুভূমির এক একটি পঙ্গপালে কমপক্ষে ১০ লাখ পতঙ্গ থাকে। আর প্রত্যেক পতঙ্গ তাদের দেহের ওজনের সমান খাবার খায়।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে এক পতঙ্গবিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ম্যানহাটনের আয়তনের সমান একপাল পতঙ্গ এক বেলায় যে খাবার খায় তা নিউ ইয়র্কের মতো তিনটি শহরের এক দিনের খাবারের সমান।’ পূর্ব আফ্রিকার কয়েক হাজার একর জমির ফসল ইতিমধ্যেই নষ্ট করে দিয়েছে পঙ্গপাল। এ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সংস্থাটির মতে, চলতি বছরের জুন নাগাদ আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩০টি দেশে পঙ্গপাল হানা দিতে পারে। পঙ্গপালের এমন আক্রমণের ঘটনা প্রাচীন মিসরে শোনা যায়। কিন্তু পতঙ্গদের এমন জোটবদ্ধ হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় বিজ্ঞানীদের পক্ষে এ আক্রমণের কারণ বের করা কষ্টকর হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ কালো হয়ে গিয়েছিল পতঙ্গদের কারণে। ১৮০০ মাইল দীর্ঘ ও ১১০ মাইল প্রশস্তের ওই পঙ্গপালটি মিডওয়েস্টের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এরপর ২০০৩-০৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় পঙ্গপালের কারণে আড়াই বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়।
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে জিবুতি, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া ও কেনিয়ার অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। সোমালিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ পতঙ্গদের প্রজনন এতটাই দ্রুত হচ্ছে যে, কিছুদিনের মধ্যেই উগান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে যেতে পারে। আর জুন নাগাদ এ পতঙ্গের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে পাঁচশো গুণ বেড়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণের কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করে সে দেশের সরকার। পঙ্গপালের কারণে দেশটির শষ্যের অনেক ক্ষতি হয়। পঙ্গপাল পাকিস্তান পেরিয়ে সীমান্তবর্তী ভারতের গুজরাট ও রাজস্থানে প্রবেশ করেছে। বছরের এ সময় ওই দুই অঞ্চলে রবিশস্য মাঠে থাকে। পঙ্গপালের প্রাথমিক আক্রমণে ওই দুই অঞ্চলের সাড়ে তিন লাখ হেক্টর জমির শস্য ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়েছে। এ শস্যের মধ্যে রয়েছে গম, জিরা, সরিষা ও ছোলা। ভারত সরকার পঙ্গপালের আক্রমণ ঠেকাতে অনেক পদক্ষেপ নিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
