তেঁতুলিয়ায় শ্রমিকদের হার না মানা লড়াই

বরফগলা জলে ডুবিয়ে তোলা পাথরে জীবিকা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২০ পিএম

এবারের হাঁড়কাপানো শীতে এমনিতেই দুর্ভোগের শেষ নেই দেশের উত্তরাঞ্চলে। টানা শীতের দাপট আর শৈত্যপ্রবাহে ঘর হতে বের হওয়াই যেখানে দায়, সেখানে কঠিন এ শীতকে হার মানিয়েছেন বরফগলা জলে ‘জীবন পাথরের’ লড়াইরত শ্রমিকরা। শেষ মাঘের কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে তারা এখনো জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন নামেন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মহানন্দা নদীতে। মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানকৌড়ির মতো সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পানিতে ডুবে ডুবে তুলে আনেন পাথর।

সন্ধ্যায় কঠিন পরিশ্রমের উত্তোলিত পাথর মহাজনের কাছে বিক্রি করে পরিবারের মুখে তুলে দেন খাবার। এ যেন পাথরে ঘুরছে তাদের জীবনের চাকা। এ চিত্র দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ার। এখানে প্রায় দেড় লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিশ হাজারের বেশি পাথর শ্রমিক। এসব পাথর উত্তোলিত হচ্ছে নদী ও সমতল ভূমি থেকে।

পাথর সংগ্রহকারীরা ভাগ্যদেবতা মনে করেন মহানন্দাকে। প্রতিদিন শতশত টন নুড়ি পাথর তোলা হয় এ নদী থেকে। শ্রমিকরা দল বেঁধে বাতাসে ফোলানো গাড়ির চাকার টিউব, লোহার চালনি এবং পাথর শনাক্তের জন্য লোহার রড নিয়ে মহানন্দার বরফগলা পানিতে নেমে নুড়িপাথর তোলেন। পরে পানিতে ভাসানো টিউবের ঢাকিতে করে উত্তোলন করা পাথর দুকাঁধে ভর করে তীরে এনে জমা করেন। সন্ধ্যায় মহাজনের কাছে ওইসব পাথর বিক্রি করা টাকায় জোটে তাদের পরিবারের আহার। দিন শেষে মেলে ৪০০-৫০০ টাকা। উপার্জনের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বরফগলা পানিতে নেমে নুড়ি পাথর কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কথা হয় আমিনুর হোসেন, জাকির হোসেন ও ফরিদ হোসেনের সঙ্গে। তারা জানান, সকাল ৯টায় নদীতে নেমেছেন। পানি খুব ঠা-া। কিন্তু কিছু করার নেই, বাইরে কাজ নেই। রফিক নামে এক পাথরশ্রমিক বলেন, ‘অনেক সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তবু ঝুঁকি নিয়েই পাথর তুলতে নামি নদীর বরফগলা জলে।’ শ্রমিকরা বলেন, ‘ভোর থেকে কনকনে শীতে হাত অবশ হয়ে এলেও সব প্রতিকূলতা হার মানে আমাদের কাছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত