কোটি টাকা দামের ৫০ গাড়ি পাচ্ছেন ইউএনওরা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:২৮ এএম

প্রায় কোটি টাকা দামের পাজেরো স্পোর্টস কিউ এক্স জিপ গাড়ি পাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। তাদের জন্য ৪৭ কোটি টাকা দিয়ে ৫০টি নতুন গাড়ি কিনছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে গাড়িগুলো কেনার একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে ইউএনওদের জন্য গাড়ি কেনার প্রস্তাবসহ মোট পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ইউএনওদের জন্য ৫০টি জিপ গাড়ি কেনার একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এসব গাড়ি কেনা হবে।

গাড়ির দাম জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বৈঠকে উপস্থাপিত ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৯৪ লাখ টাকা। এতে আরও বলা হয়, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর ২০০৬-০৭ অর্থবছর থেকে ইউএনওদের সরকারি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য জিপ গাড়ি ক্রয় করে বরাদ্দ দিয়ে আসছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, পুরনো জিপগুলোর আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় তা মেরামত করে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় গতিশীলতা আনতে ব্যাহত হচ্ছে। এসব গাড়ির বদলে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে নতুন ৫০টি জিপ গাড়ি কেনা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে ইউএনওদের জন্য ৫০টি পাজেরো স্পোর্টস কিউ এক্স জিপ গাড়ি সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে। ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে ৫০টির মূল্য দাঁড়াবে ৪৭ কোটি টাকা।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এলইডি সড়কবাতি সরবরাহ ও স্থাপনে একটি প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে ব্যয় হবে ৩৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

বৈঠকে জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ বছরে ১৫ লাখ পারসোনালাইজড ডুয়েল ইন্টারফেস পলিকার্বনেট মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মহেশখালী, মাতারবাড়ী এবং বাঁশখালী এলাকায় নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য একটি ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের প্রস্তাবেও বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে চট্টগ্রামে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ স্থাপনে একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৪৮৬ কোটি টাকা। ছয় একর জায়গার মধ্যে নতুন এই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত