প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে চীনের ১ হাজার ৭১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের সংবাদ প্রকাশ করেছে সিএনএন। আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের ৯০ শতাংশই হুবেই প্রদেশের।
এনএইচসির মতে, উহানে ৩৯৮টি হাসপাতাল ও ছয় হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তবে হাসপাতালগুলোর মধ্যে মাত্র ৯টিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া উহানের অতিরিক্ত
৬১টি হাসপাতালে জ্বর ও ঠাণ্ডার ভোগায় রোগীদের ভর্তি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬১টি হাসপাতালের মধ্যে ঝংনান হাসপাতালের ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই আক্রান্তের ঘটনায় বাকি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। স্বাস্থ্যকর্মীরা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষামূলক পোশাক ও মাস্ক পরার পরেও কেন আক্রান্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
করোনাভাইরাসে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৪৮৮। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার। গতকাল শুক্রবার সকালে এনএইচসি এ তথ্য জানিয়েছে।
দুদিন আগেও হুবেই প্রদেশে সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে হঠাৎ মৃতের নতুন এই সংখ্যায় করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪৫০-এর বেশি। এখন অবশ্য যাদের শরীরে রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হচ্ছে তাদেরও সংক্রমিত হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। চীনে যত মানুষ সংক্রমিত হয়েছে তার ৮০ শতাংশই হুবেই প্রদেশের।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তথ্য প্রকাশে চীন স্বচ্ছতার পরিচয় দিচ্ছে না। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের দাবি, তারা ভুল করে মৃতের সংখ্যা দুইবার গুনেছিল। সে ক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮০ থেকে আরও ১০৮ জন কম হবে।
হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেলেও বিশ্বজুড়ে এর প্রাদুর্ভাব অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম জাপানে আটকা পড়া ক্রজ শিপ ডায়মন্ড প্রিন্সেস। গত বৃহস্পতিবার জাহাজটিতে নতুন করে ৪৪ জন আক্রান্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৮। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের হার বা এর তীব্রতায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ডব্লিউএইচওর হেলথ ইমার্জেন্সি প্রধান মাইক রিয়ান বলেছেন, আক্রান্ত নির্ধারণে হুবেই কর্র্তৃপক্ষ যে ব্যাখ্যা নির্ধারণ করেছিল, তাতে পরিবর্তন আনায় ভাইরাসটিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ‘এতে প্রাদুর্ভাব বিস্তারের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রতিফলিত হয় না।’ বলেন তিনি। ডব্লিউএইচওর এই কর্মকর্তা জানান, চীনের বাইরে ২৪টি দেশে ৪৪৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর মারা গেছে দুজন।
সিঙ্গাপুরের মানুষেরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ও আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসাকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ জানাতে ভ্যালেন্টাইনস ডেতে হাতে লেখা বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করছেন। দেশটিতে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ৫০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকার আক্রান্তদের শনাক্ত ও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এদিকে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের কাছাকাছি একটি গ্রামে ভাইরাসে আক্রান্ত কয়েকজনকে শনাক্ত করার পর গোটা গ্রামটিকে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় দশ হাজার বাসিন্দা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
