আরও সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:৫৬ এএম

সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এই কার্যক্রমের সপ্তম পর্যায়ে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে পুরো সরকারিভাবে ৪ হাজার ৫৫৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেতে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবটি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ে কার্যক্রমের জন্য ৮৬ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতি বছর এই কার্যক্রমের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের পুরস্কারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ হিসাবে সাড়ে ১১ লাখের বেশি শিক্ষক আগামী ৪ বছরে এই পুরস্কার পাবেন। এজন্য ২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের সমন্বয় সভার আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সারা দেশে ৩২ হাজার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, ৪৬ হাজার সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৫০০ জন স্কুলগামী ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে শিক্ষা, ৭৬৮টি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯৬ হাজার জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীদের সাক্ষরতা ও ধর্মীয় শিক্ষা এবং ১ হাজার

১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসার মাধ্যমে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রকল্পের আওতায় মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হবে।

এই কাজ সম্পন্ন করতে নিয়মিত জনবল হিসেবে ৮৪৬ জন ও অনিয়মিত জনবল হিসেবে ৮৬ হাজার ৭৭৯ জন আলেম-ওলামা, বেকার নারী-পুরুষকে জনবল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরা কওমি, আলিয়া ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবনায়।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সারা দেশে মসজিদ অবকাঠামো ব্যবহার করে মসজিদ নিকটবর্তী শিশুদের জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাক-প্রাথমিক ও কোরআন শিক্ষা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর ভর্তির হার বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি উপজেলা পর্যায়ে ২টি করে দারুল আরকাম মাদ্রাসা পরিচালনা করা হবে।

২০১৪ সালে ষষ্ঠ পর্যায়ের এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার সময় একেনেকে প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি অনুশাসন ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, দেশের যেসব এলাকায় স্কুল নেই সেখানে এ প্রকল্পের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে মোট ১ হাজার ১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। আলোচ্য প্রকল্পে এসব মাদ্রাসার মাধ্যমে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থীকে আরবি ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্মকাণ্ড ও শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যেই এ প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ প্রকল্পে মসজিদের ইমামরা শিক্ষাকেন্দ্রে শিশু শিক্ষার্থীদের বাংলা, অংক, ইংরেজি, আরবি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে আসছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হার বেড়েছে। প্রকল্পটির আওতায় অধিকাংশই সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত