সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেছেন, দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে জনগণকে সোচ্চার করে তুলতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন ফেরাতে যত বেশি প্রয়োজন, আন্দোলন চালাতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা মিলনায়তনে আয়োজিত সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা বলেন, নানা দিক থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, এটা উৎসাহব্যাঞ্জক। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে উদ্বেগ আছে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনেক সংস্কার করেও লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি। নির্বাচন ও দুর্নীতি দুটো বিষয় নিয়েই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮১ শতাংশ আর ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে পড়েছে ৩০ শতাংশের কম। অথচ আমরা জানি, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের হার বেশি হয়। ২০ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পরিবর্তে এক দফা দাবি তোলা দরকার, আর তা হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
সুজনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সংস্কারে ২০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান চালালে হবে না, ব্যবস্থা বদলাতে হবে। সরকারের সব কার্যক্রম উন্মুক্ত করতে জনগণকেও সক্রিয় হতে হবে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে আছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন করতে সুজন নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এটিকে স্বাগত জানাই।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, সুজনের সংস্কার প্রস্তাব যথার্থ। এ আন্দোলনে সবার যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
