বিকাশ-নগদ-রকেট সার্ভারে অবাধ প্রবেশ চায় দুদক

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩৬ পিএম

বিকাশ, ইউক্যাশ, নগদ, মাইক্যাশ, এমক্যাশ, শিওরক্যাশসহ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সার্ভারে অবাধে প্রবেশাধিকার চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি এমএফএস সার্ভিস ব্যবহার করে ঘুষ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় কমিশন এই উদ্যোগ নিয়েছে। এমএফএস সার্ভিসের সার্ভারে দুদকের অবাধ প্রবেশের বিষয়ে আলোচনার জন্য আজ সোমবার মোবাইল ব্যাকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে দুদক।

ইতিমধ্যে দুদকের পরিচালক (মানি লন্ডারিং) গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সবকটি এমএফএস সার্ভিসকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দিয়েছেন। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রতারণা, অর্থপাচার, হুন্ডি ও জঙ্গি অর্থায়ন রোধে এমএফএস সার্ভিসের তথ্য চাওয়া হয়। কিন্তু এফএমএফ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের নিরাপত্তার কারণে পুলিশকে তাদের সার্ভাসে প্রবেশের অধিকার দেয়নি। বরং তারা প্রয়োজনে ও আদালতের নির্দেশনা অনুসারে তথ্য সরবরাহ করে আসছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের অর্থপাচার (মানি লন্ডারিং) অনুবিভাগ থেকে বিভিন্ন এমএফএস সার্ভিসকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে অবাধে ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া দেশের বাইরে অর্থপাচার ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার হচ্ছে। সেটা বন্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের প্রয়োজনে এমএফএস সার্ভিসের সার্ভারে প্রবেশাধিকার জরুরি। সে লক্ষ্যে আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় নগদ, বিকাশ, ইউকাশ, এমক্যাশসহ সবগুলো এমএফএস সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।   

এর আগে দুদকের এক সভায় অর্থপাচার প্রতিরোধ (মানি লন্ডারিং) অনুবিভাগের মহাপরিচালক আ ন ম আল ফিরোজ এক সভায় বলেন, সরকারি দপ্তরের এক কর্মকর্তা বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ চেয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে  (বিএফআইইউ) চিঠি দিলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি, যা উদ্বেগজনক। যদিও তদন্তের স্বার্থে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেনি দুদক। ওই সভায় এমএফএস সার্ভিসের নির্বাহীদের উপস্থিত ছিলেন। সভায় তথ্যভাণ্ডার থেকে আর্থিক লেনদেনের রিয়েল টাইম তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কৌশল নির্ধারণের জন্য আলোচনা হয়। ওই সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আল ফিরোজ বলেন, ‘দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট এক রিপোর্টের মাধ্যমে জানিয়েছে, একটি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ ঘুষের টাকা গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট দুদকে কোনো সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট (এসটিআর) করেনি। যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সন্দেহজনক লেনদেনে সম্পৃক্ত থাকেন, তা অবশ্যই দুদককে জানাতে হবে।’ এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এক সার্কুলারে এমএফএস অ্যাকাউন্টে সব ধরনের ক্যাশ ইন/ক্যাশ আউটের ডিজিটাল মানি রিসিটের বিস্তারিত তথ্য দুদকের অনুসন্ধান বা তদন্তের প্রয়োজনে সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে। একই সার্কুলারে এমএফএস গ্রাহক ও লেনদেনের তথ্যভাণ্ডার থেকে দুদককে রিয়েল টাইম তথ্য প্রদানের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধি মো. আজমল হোসেন বলেন, ‘ঘুষ সংক্রান্ত কোনো এসটিআর থাকলে তা অবশ্যই দুদককে জানানো হবে। এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেলে দুদককে জানানো হবে।’ দুদক মহাপরিচালক ফিরোজ বলেন, ‘এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ডাটাবেজ থেকে অ্যাপ্লিকেশন ইন্টারফেসের মাধ্যমে গ্রাহক লেনদেনের তথ্য দুদকে দিতে হবে। এসব মাধ্যমে যেসব ঘুষের লেনদেন হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণে দুদক আইনি দায়িত্ব পালন করবে।

সম্প্রতি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে এমএফএস সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে বলা হয়। ওই সভায় জালিয়াতি রোধে গ্রাহকদের তথ্য সরাসরি সরবরাহের নিশ্চিত করার কথা বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

এছাড়া ব্যাংক থেকে সরাসরি গ্রাহকের তথ্য নেওয়ার ক্ষমতা চেয়ে একাধিকবার পুলিশের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা ও গ্রাহকদের হিসাবের তথ্যের নিরাপত্তার কারণে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বর্তমানে আদালত, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, দুদক, সীমিত আকারে এনবিআর ব্যাংক থেকে সরাসরি গ্রাহকদের তথ্য নিতে পারে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত