বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাজের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘বৈশ্বিকভাবে চিন্তা করলেও আমাদের কাজ করতে হয় স্থানীয়ভাবে। আমাদের মলম পার্টি, পকেটমার, ক্যাসিনো মেম্বার, পাতি নেতা নিয়েও কাজ করতে হয়।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৪৯ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষে ১২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয় আমেরিকা এ করে, সুইজারল্যান্ড-জার্মানিতে ও হয়। আমাদের দেশে হয় না কেন? সেদিন একটি রাজনৈতিক দল এলে আমি অত্যন্ত নিচু গলায় তাদের বললাম আগে তো আমাদের সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপর এসব হবে। ইউ মাস্ট থিংক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। তবে সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’
তিনি বলেন, ‘দেখা গেল গুলিস্তানে, মহল্লায় যারা হকারদের থেকে টাকা নেয়, কিছুদিন পর তারাই নেতা। পাতি নেতা, উপনেতা থেকে একবারে পূর্ণ নেতা। এরপর তো কমিশনার। হু নোজ যে একদিন এরাই এমপি হবে না? এগুলো আমাদেরই দেখতে হয়। এজন্য তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।’ নবীন কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেই রাজনীতিকদের, যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। এটি বিরাট চ্যালেঞ্জের। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উপায় হলো চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। এগুলো অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তিত্ববান হতে হবে।’
সিইসি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এটি নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। আমরা বলি কী, সুইজারল্যান্ডে তো ব্যালটপেপারে ভোট হয়। কিন্তু তাদের তো যুদ্ধের মতো বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করতে হয় না। পুলিশ, আর্মি সবাইকে নামাতে হয় না। পোস্টারের ভিড়ে আকাশ দেখা যায় না, বাতাসও আটকে যায় না। তাই বলে কি আমাদের এখানে নির্বাচন করতে হবে না? সেভাবেই নির্বাচন করতে হবে।’
ইভিএমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কেন ইভিএম? ইভিএমের ফলেই এখন আর নির্বাচনে সেই দশটা হোন্ডা, বিশটা গুণ্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হয় না। ভোট ছিনতাইকারীদের কাছে তাদের যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের পেছনে যারা টাকা ঢালেন, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।’ ইসি সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
