কর্নিয়ায় ঘা: কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:০৫ এএম

চোখ দিয়ে ভালোভাবে দেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্নিয়া। এটি ঘড়ির কাচের মতোই স্বচ্ছ। কোনো কারণে এটি অস্বচ্ছ হয়ে পড়লে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই না বা ঝাপসা দেখি। কর্নিয়ায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য একটি সমস্যার নাম কর্নিয়ায় ঘা।

কারণ

আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্ধত্বের ৫৫ শতাংশই হয়ে থাকে কর্নিয়াজনিত কারণে। নানা কারণে কর্নিয়ায় ঘা হয়।

কৃষকের কর্নিয়ায় ঘা হয় কৃষিপণ্যের আঘাতে।

চোখ রক্ষাকারী গগলস না পরে যারা লেদ মেশিনে কাজ করেন, তাদের কর্নিয়ায় লোহা ঢুকে ঘা হতে পারে।

হারপিস ভাইরাসের কারণে ঘা হতে পারে।

কর্নিয়ায় পানি জমা বা বুলাস কেরাটোপ্যাথির কারণে ঘা হতে পারে।

থাইরয়েড বা টিউমারজনিত কারণে চোখ বন্ধ না হওয়ার সমস্যার আরেক কারণ।

কর্নিয়ায় স্পর্শ চেতনার অভাব হলে, ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখ ওঠা ও আঘাত পেলে, নেত্রনালির রোগ থাকা ও সামান্য আঘাত পেলে। ফাঙ্গসজনিত ধানের পাতা বা ওই জাতীয় কিছুর আঘাতে ঘা হতে পারে।

লক্ষণ

চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া, আলোভীতি, চোখ খুললে ব্যথা হওয়া, চোখে ময়লা জমা, চোখের ভেতরে পুঁজ জমা, ঝাপসা দেখা, সকালে চোখের ময়লায় চোখ আটকে থাকা, কখনো চোখে আলো ছাড়া কিছুই দেখা না যাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

কাজ করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে, চোখে যেন কোনো ধরনের আঘাত না লাগে।

শিশুদের খেলনা যেন ধারালো, চোখা বা লোহা দিয়ে তৈরি না থাকে, অবশ্যই তা খেয়াল রাখতে হবে।

পেনসিল, কলম ব্যবহারে শিশুকে সতর্ক রাখা, ধুলাবালি চোখে গেলে নিজে নিজে বের না করা।

ওয়েল্ডিং ও লেদ মেশিনে যারা কাজ করেন, তাদের চোখ রক্ষার গগলস বা রোদচশমা ব্যবহার করা।

নারীদের ধান মাড়াই ও ঝাড়ার সময় ধানের শিষ চোখে যেন না যায়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা।

চোখ ওঠা রোগীর ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার না করা।

নেত্রনালি বন্ধ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা করা। কোনোভাবে চোখে আঘাত পেলে দ্রুত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া ও চিকিৎসা গ্রহণ করা।

চিকিৎসা

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অবস্থা অনুযায়ী চোখের ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক, মিড্রিয়াটিক, অ্যান্টিফাঙ্গল বা অ্যান্টিভাইরাল ব্যবহার করতে হয়। ড্রপ ছাড়াও চোখে ইনজেকশন দিতে হয়। ভালো না হলে চোখ বন্ধ করার অস্ত্রোপচার করা। কখনো চোখ ভালো হলেও কর্নিয়ায় সাদা দাগ পড়ে যায় এবং তাতে দেখতে অসুবিধা হয়। এ ক্ষেত্রে মণি বদল বা কর্নিয়া সংযোজন করে চোখ ভালো করা যায়।

প্রফেসর ডা. সৈয়দ এ কে আজাদ

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন

সাবেক বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৫৫২৪০৯০২৬; ০১৭১০৭৩৬০০৮

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত