সপ্তম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ১০:৫৯ পিএম
সহকারী শিক্ষক, শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
 
দ্বিতীয় অধ্যায় : বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য
সৃজনশীল প্রশ্ন
মিসেস মাহাবুবা হাসনাত সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক। সপ্তম শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বললেন, এক ধরনের সংস্কৃতি আছে, যা সাধারণ মানুষ ও তার সমাজের সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির জন্ম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে, তাদের চিন্তায় ও কর্মে। হাজার বছর ধরে এই সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
ক. কার উদ্দেশে নাচ করা মণিপুরীদের সবচেয়ে প্রিয়? 
খ. গ্রামীণ সংস্কৃতি কীÑ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে কোন সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্কৃতির ধারাগুলো ব্যাখ্যা করো।
 
উত্তর
ক. রাধা-কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে নাচ করা মণিপুরীদের সবচেয়ে প্রিয়।
খ. বাংলাদেশের গ্রামকে কেন্দ্র করে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা-ই গ্রামীণ সংস্কৃতি। মানুষ যা করে, যা ভাবে এমন সবকিছুই তার সংস্কৃতি। গ্রামের মানুষ নানা ধরনের পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর এভাবে সে যে আচরণ করে, যা সৃষ্টি করে বা যে ভূমিকা রাখে, তার একত্র রূপই গ্রামীণ সংস্কৃতি। যেসব পেশাজীবী গ্রামে বাস করে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঝি, দর্জি, কবিরাজ, ডাক্তার, ওঝা, বৈদ্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত 
প্রভৃতি। এদের সবাইকে নিয়েই গ্রামীণ সংস্কৃতি।
গ. উদ্দীপকে যে সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে, তা হলো লোকসংস্কৃতি। লোকসংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি সাধারণ মানুষ ও তার সমাজের সংস্কৃতিকে। এ সংস্কৃতির জন্ম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে, তাদের চিন্তায় ও কর্মে। হাজার বছর ধরে এই সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে মানুষের মুখে মুখে বলা লোকসংস্কৃতির অনেক কিছুই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটু একটু করে পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে আদিকাল থেকেই মানুষ লোকসংস্কৃতি লালন করে আসছে। লোকসংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয়েছে গ্রামীণ কৃষিসমাজের মধ্য থেকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সপ্তম শ্রেণিতে মিসেস মাহাবুবা হাসনাত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ক্লাসে পড়ালেন যে, মানুষ যুগ যুগ ধরে একটি সংস্কৃতি লালন করে আসছে। পরে এই সংস্কৃতি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর অনেক কিছু পরিবর্তনও হয়েছে। মিসেস মাহাবুবা হাসনাতের উল্লিখিত উদ্দীপকটি বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। অতএব আমরা বলতে পারি উদ্দীপকে লোকসংস্কৃতিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্কৃতি হলো লোকসংস্কৃতি, যার বিভিন্ন ধারা রয়েছে। যে সংস্কৃতির জন্ম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে, তাদের চিন্তায় ও কর্মে সেই সংস্কৃতি হলো লোকসংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি হাজার বছর ধরে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধারার সৃষ্টি হয়েছে। যেমনÑ লোকসমাজে ভূতের ভয়ের অস্তিত্ব অনেক পুরনো। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে বিচার করলে ভূত বলে কিছু নেই। কিন্তু লোকসমাজে ভূত থাকার ব্যাপারে গভীর বিশ্বাস রয়েছে। ‘মানুষ মারা গেলেও আত্মা অমর’Ñ এ ধারণা থেকে ভূত থাকার ব্যাপারে গভীর বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। আবার লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এসব ভূত তাড়াতে ওঝারা ঝাড়ফুঁক, হলুদ পোড়া, মরিচ পোড়া ইত্যাদি প্রয়োগ করে। গায়েহলুদ আমাদের সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। গায়েহলুদ অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের আচার-আচরণ ও সংস্কার পালন করা হয়। আবার রোগ মুক্তির জন্য হিন্দুরা পুরোহিত ও মুসলমানরা পীর বা মৌলবি সাহেবদের কাছ থেকে তাবিজ বা মাদুলি নিয়ে গলায়, বাহুতে অথবা কোমরে বেঁধে রাখে। আবার চোখ লাগা থেকে বাঁচার জন্য লোকসমাজে বিশ্বাস রয়েছে বাচ্চার ওপর অশুভ দৃষ্টি পড়লে ক্ষতি হতে পারে। সাধারণভাবে একে চোখ লাগা বলে। অশুভ দৃষ্টি কাটানোর জন্য তাই বাচ্চার কপালের পাশে কাজলের টিপ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খরা হলে বৃষ্টি নামানোর জন্য গ্রামের মেয়েরা এক ধরনের অনুষ্ঠান করে। তারা কুলা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যায়। মুখে বৃষ্টির গান গায় বা ছড়া কাটে। বাড়ির মেয়েরা কুলার ওপর পানি ঢেলে দেয়। তারা বিশ্বাস করে, এভাবেই আকাশ থেকে বৃষ্টি নামবে। ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাজের মানুষের বিভিন্ন বিশ্বাস থেকেই লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন দিক বা ধারার সৃষ্টি হয়েছে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত