কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সঠিক রিপোর্ট না দিতে সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসকদের বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্য আজকে বিএসএমএমইউ ডাক্তাররা, যাদের এই দেশের মানুষ শ্রদ্ধা করে, নির্ভর করে, তারা সঠিক রিপোর্ট দিতে পারলেন না। সরকার বাধ্য করেছে সঠিক রিপোর্ট না দেওয়ার জন্য।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বেলা ১১টা থেকে ১২ পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
গত শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত সোমবার সারা দেশে এই কর্মসূচি পালন করা হলেও ঢাকার কর্মসূচি এক দিন পিছিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানিতে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের গঠিত খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। ২৫ ফেব্রুয়ারি যে ব্লাড পরীক্ষা হয়েছে, সেখানে খালেদার ফাস্টিং সুগার ১৪ দশমিক ৫ ছিল। ফখরুল বলেন, নিয়মিত সুগার এই মাত্রায় হলে তা হার্ট, কিডনিসহ লাংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ পর্যন্ত সরকার রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। রোহিঙ্গা সমস্যা সরকার নিজেই জিইয়ে রেখেছে। কারণ পশ্চিমা বিশ্ব থেকে যে সাহায্য আসে, তার ভাগ-বাটোয়ারা ক্ষমতাসীনরা পায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধে সরকার কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সীমান্তের নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা হয়নি। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বাংলাদেশের কথা বলা হলেও সরকার সেটা নিয়ে কথা বলতে পারে না।
পানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পানির দাম কমপক্ষে পাঁচবার বেড়েছে। সেই পানি মুখে দেওয়া যায় না। বিদ্যুতের দাম আটবার বেড়েছে। কারণ, কুইক রেন্টালের নামে যারা লুট করেছে, তাদের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য জনগণের পকেট কেটে তারা বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, এই সময়ে বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়িয়ে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষকে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তাই জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বোঝার ক্ষমতা নেই। ১২ বছর ধরে জনগণকে যেসব অত্যাচার করা হয়েছে, তা জনগণ আর মেনে নেবে না।
