ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকাণ্ডের প্রথম বর্ষ পালন

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ১১:৩৩ পিএম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকাণ্ডের প্রথম বর্ষ পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধিরা। এই দিনটিকে জাতীয় স্মরণ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ হর্নক্যাসল এরিনায় আল নুর মসজিদ এবং লিনউড মসজিদ কমিউনিটির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পালন করা হবে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে প্রকাশিত সংবাদে এমনটা জানা গেছে।

লিনউড মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল সাইদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সহজ করতে অনুষ্ঠানের জন্য স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। মুসলমানরা সাধারণত মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন না; এ প্রসঙ্গে মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যানটারবেরির মুখপাত্র টনি গ্রিন বলেছেন, এটি শোক পালন নয়। বরং তারা যে পথে চলেছেন, সে পথ আমাদেরও অনুসরণ করতে হবে সেটা শুভ বোধ জাগ্রত করা।

আল নুর মসজিদের ইমাম ও খতিব গামাল ফৌদা প্রতি বছর ১৫ মার্চ একটি জাতীয় স্মরণসেবা অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের হামলাকে তিনি ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেছেন। এতে মুসলিমদের সাধারণ জীবনযাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত বছরের ১৫ মার্চ জুমার সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে একজন অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান-শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি বর্বরোচিত হামলা চালায়। পৈশাচিক ওই হামলায় ৫০ জন মুসল্লি প্রাণ হারান।

ভয়াবহ ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শোকে মুষড়ে পড়ে পুরো নিউজিল্যান্ড। শোকে মুহ্যমান হয়েছে মুসলিম বিশ্ব। মর্মন্তুদ এই নৃশংসতার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের দরদি ও বিমর্ষ চেহারা দেখেছে বিশ্ববাসী। মুসলিমদের আশ্বাস ও অভয় দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা তোমাদের শোকের সঙ্গী হয়তো হতে পারব না। কিন্তু কথা দিচ্ছি, আমরা একসঙ্গেই চলব।’ হিজাব পরে তিনি মুসলিম কমিউনিটিতে হাজির হন। সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আরবিতে ‘আসসালামু আলাইকুম বলে বক্তব্য শুরু করেন। আমন্ত্রিত মুসলিমদের জন্য সংসদে নামাজের ব্যবস্থাও করেন। এরপর উঠে গিয়ে সংসদে আসা মুসলিমদের সমবেদনা জানান। মুসলিম নারীদের বুকে টেনে নেন।

হামলার পরবর্তী শুক্রবার (২২ মার্চ) ১টা ৩২ মিনিটে হামলার শিকার আল নুর মসজিদের পাশে হেগলি পার্কে নীরবতা পালনের কর্মসূচিতে অংশ নেন জেসিন্ডা। মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনিসহ শত শত কিউই নারী হিজাব পরে হাজির হন। এতে প্রায় ২৫ হাজার নাগরিক সমবেত হন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে আজান প্রচার হয়। এরপরই দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে শোকার্ত জনতাকে হাদিস শুনিয়ে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, ‘নবী মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিশ্বাসীরা (মুমিন) সবাই একটি দেহের মতো। দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে, পুরো শরীর ব্যথা-যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডবাসী আপনাদের মতোই শোকাহত। আমরা ঐক্যবদ্ধ, কেউ আমাদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত