বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে মাস্ক, গ্লাভস আর প্রোটেকটিভ গাউনের মতো সুরক্ষা উপকরণের সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন দেশে এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ও কোম্পানিগুলোকে উৎপাদনের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। দুই মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০৩ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা পেঁছেছে প্রায় ৯৩ হাজারে এবং চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৭৯৫ জন।
এদিকে নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করেও চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০টি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে। তবে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে চীনের চেয়েও ভয়ংকরভাবে আঘাত হেনেছে ভাইরাসটি।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এক দিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ভাইরাসের বিস্তার বাড়তে থাকায় রাজধানী দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ৩৮ জনসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮১ জনে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, নতুন করে ১১৯ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ২৭০ জন। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৯ হাজার ৮৫৬ জন।
ইতালিতে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৬০ জন। ইরানে মারা গেছেন ৭৭ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৬ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৯১ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় মারা গেছেন ৩৩ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩২৮ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪১ জন।
এছাড়া জাপানে ১২ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ জন, ফ্রান্সে ৪ জন, হংকংয়ে ২ জন এবং ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডে একজন করে মারা গেছেন করোনাভাইরাসে। ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখনো করোনাভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি, তবে এ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে সুরক্ষা উপকরণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেভাবে দাম বাড়ছে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তেদ্রোস গেব্রিয়েসাস।
তিনি জানান, এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে সার্জিক্যাল মাস্কের দাম বেড়ে ছয়গুণ হয়েছে, এন৯৫ মাস্কের দাম বেড়ে হয়েছে তিনগুণ। আর প্রোটেকটিভ গাউনের জন্য আগের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে প্রতি মাসে ৮ কোটি ৯০ লাখ মাস্ক, ৭ কোটি ৬০ লাখ গ্লাভস এবং ১৬ লাখ জোড়া গগলস প্রয়োজন।
