ইদলিব প্রদেশকে কেন্দ্র করে তুরস্ক এবং সিরিয়ার মধ্যে চলমান লড়াই থামাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন ভ্লুদিমির পুতিন এবং এরদোয়ান।
ইদলিব থেকে বিদ্রোহীদের হটিয়ে মূলত দ্রুত সিরিয়ার যুদ্ধ শেষ করতে উদ্গ্রীব হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। কিন্তু তুরস্কের কাছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কৌশলগত মূল্য অনেক। এদের তারা কুর্দিদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে চায়।
তুরস্কের আঙ্কারাভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) জানিয়েছে, এদিনের বৈঠকের বিষয়টি পুতিন ‘খুব ভালোভাবে’ নিয়েছেন।
আলোচনার শুরুতে এরদোয়ানকে তিনি বলেন, ‘আসার জন্য ধন্যবাদ। সব সময় আলোচনার কিছু না কিছু থাকে।’
‘জীবন হারানো বড় দুঃখজনক ঘটনা। আমি ফোনেই সেটি আপনাকে বলেছি। এসব যেন আর না হয়, তার জন্য আমাদের কথা বলা প্রয়োজন।’
পুতিনের এমন কথায় তুরস্ক-সিরিয়া আশায় বুক বাঁধছে। ইদলিবে গত কদিনের হামলা পাল্টা হামলায় সিরিয়া এবং তুরস্ক দুপক্ষেরই প্রাণহানি হয়েছে।
বুধবার তুরস্ক তাদের দুজন সৈন্যের নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করে। এ নিয়ে ইদলিবে নিহত তুর্কি সৈন্যের সংখ্যা সরকারি হিসাবেই ৫০ ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে তুরস্ক সিরিয়ার তিনটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে এবং দাবি করেছে তাদের হামলায় ছয়শরও বেশি সিরিয় সৈন্য এবং শিয়া মিলিশিয়া মারা গেছে।
এখনও তুরস্ক সিরিয়ায় সরাসরি রুশ সৈন্য বা রুশ যুদ্ধ বিমান টার্গেট করেনি, কিন্তু পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তেমন ঘটনা মাত্র সময়ের ব্যাপার বলে সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের বিশ্লেষক কোনোর ডিলিন বলছেন, ‘সিরিয়াকে ঘিরে তুরস্ক এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি এখন প্রবল। দুই দেশেরই সেখানে ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং সেগুলো চরিতার্থ করতে কেউই পিছু হটতে রাজি বলে মনে হচ্ছে না।’
ইদলিবে তুরস্কের সামরিক তৎপরতায় বাড়ায় মস্কো রীতিমতো নাখোশ। একদিন আগেই রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে খোলাখুলি বলেছে, ইদলিবে তুরস্কের সৈন্যদের সাথে জিহাদি বিদ্রোহীদের সখ্যতা এবং সহযোগিতা আরো দৃঢ় হচ্ছে।
