মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, পাপিয়াকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের অনেকের নাম আসা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,
‘মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছে না। সব প্রস্তুতি যথাযথভাবে এগিয়ে চলছে। কিছু লোক আছে বিশেষ করে বিএনপি তারা সবকিছুতেই বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে। বিএনপি শুধু ইস্যু খোঁজে। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতা ও ঔজ্জ্বল্য ঢেকে দিতে পারেনি। তাই এখন মুজিববর্ষ উদযাপনের বিরোধিতা করছে।’
পাপিয়াকাণ্ডের সঙ্গে সরকারের অনেকের নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, এতে আওয়ামী লীগ বিব্রত কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে দল বিব্রত নয়। দলের লোকের জন্য আমরা আমাদের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হই না। অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস আমাদের আছে। ব্যবস্থা নিয়েছি, অনেকে শাস্তি পেয়েছে, অনেকে শাস্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে আছেন। আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখছি, দলীয় লোক হিসেবে দেখি না।’
পিরোজপুরের আদালতের ঘটনা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আইন বিভাগ ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী কথা বলেছেন। আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের বিষয় নিয়ে আমার কথা বলা সমীচীন হবে না। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। এটাই আমাদের অবস্থান। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যদি দলীয় কোনো বিষয় থেকে থাকে তাহলে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান; সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়য়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।
