মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে রাজি বিএনপির অধিকাংশ বিদ্রোহী

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ০৪:২৪ এএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে দুশ্চিন্তা কমে আসছে বিএনপিতে। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রচেষ্টায় অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন। আজ রবিবারের মধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আশা করছেন দলের নেতারা। তবে কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে এখনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চসিক নির্বাচনে বিএনপির কাউন্সিলর মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেসব ওয়ার্ডে আমাদের দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের সঙ্গে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আলোচনা করে যাচ্ছেন। আশা করি, রবিবারের মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি নির্বাচনে থেকে যায়, তার ব্যাপারে দল অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৪১টি ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সব ওয়ার্ডেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু দলের ঘোষিত তালিকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে কিছুটা বিপাকে পড়ে দলের কাউন্সিলর মনোনয়ন বোর্ড। এ পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়ে দলের মনোনীত মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায় মহানগর বিএনপি। চিঠিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানা যায়, চিঠির পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে অধিকাংশ প্রার্থীই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয়েছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আজম উদ্দিন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যেহেতু দল প্রত্যেক ওয়ার্ডে একক প্রার্থী নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মহানগর বিএনপির নির্দেশনায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা হলেও দু’একজন এখনো নির্বাচনে থাকার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন। তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করে যাচ্ছেন নগর বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেসব ওয়ার্ডে আমাদের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন সবাইকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলা যাবে না। অনেকে দলীয় কৌশলগত কারণে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এরা নির্বাচন করবেন না।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ৯ মার্চ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারিত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত