পুঁজিবাজারে নিঃস্ব মানুষ ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ১২:৪১ এএম

অস্থির পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামা করায় বিনিয়োগ করে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারা বলেছেন, শেয়ারবাজারে ধস ও সূচকের দ্রুত অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামা বন্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটির সভায় উপস্থিত এসইসির কর্মকর্তারা শেয়ারবাজার দ্রুত ওঠানামার কারণ হিসেবে বলেন, শেয়ারবাজার আকর্ষণীয় করে তুলতে আরও বেশি কোম্পানিকে বাজারে আসার সুযোগ দিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত তহবিল ফেরত নিতে চাচ্ছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যেগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত, সেগুলোতে জনগণের শেয়ার রয়েছে। তাই উদ্বৃত্ত তহবিল ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে বাদ দিতে হবে। 

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ১২তম বৈঠকে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ বলেন, পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামা করছে। এই বাজারের সঙ্গে সাধারণ মানুষও জড়িত। এ কারণে পুঁজিবাজারে ধস নামার কারণে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার দ্রুত ওঠানামা বন্ধে এসইসিকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগে (এসএমই) বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেকে যেমন ইচ্ছাকৃত খেলাপি হচ্ছে, তেমনি অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করেও বিপর্যস্ত হয়েছেন। খেলাপি ঋণ কমাতে বিভিন্ন ব্যাংকের ওপর তদারকি জোরদার ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার পক্ষে মত দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করে চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ এখনো ফেরত আনতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করে আলী আশরাফ বলেন, রিজার্ভের মালিক জনগণ। অথচ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতরা কেউ ধরা পড়েনি। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তিনি বলেন, সার্বিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা রুগ্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া দেশ থেকে মুদ্রা পাচার হচ্ছে। এই মুদ্রা পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদার করতে হবে।

কমিটির সদস্য মো. মুজিবুল হক বলেন, শেয়ারবাজারে ধস ও দ্রুত ওঠানামা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

খেলাপি ঋণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কেউ ঋণ নিয়ে যথাসময়ে ফেরত দিচ্ছেন। আবার অনেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে আছেন। এই খেলাপি ঋণ আদায়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান তিনি।

কমিটির সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার চেষ্টা করার পরও পুঁজিবাজার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে না। তাই এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বিদ্যমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের স্বার্থে হয় ডলারের দাম বাড়ানো, নয় তাদের জন্য আলাদা রেট নির্ধারণের পক্ষে মত দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃতপক্ষ স্বাধীন কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে কমিটির অপর সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, নাকি সরকারের নির্দেশনা নিয়ে করতে হয়? এপ্রিল থেকে ঋণের সুদ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, নাকি সরকারের চাপানো তাও জানতে চান তিনি। ঋণখেলাপির বিষয়ে কমিটিতে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়, তা সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করে। তবে মুদ্রানীতি ও আর্থিক নীতির বিষয়সহ কিছু কিছু কাজ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে করতে হয়। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাজারনির্ভর সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত