করোনার কারণে ফ্লাইট গুটিয়ে নিচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ০৫:২৭ এএম

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর সংক্রমণ ঠেকাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বাংলাদেশের সবকটি এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট গুটিয়ে আনছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের যেসব এয়ারলাইনস বাংলাদেশে সেবা দেয় তারাও তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনছে। এভাবে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এ নিয়ে চিন্তিত এয়ারলাইনস কর্র্তৃপক্ষগুলো। আবার যেসব দেশে ফ্লাইট চলাচল করছে সেখানেও তেমন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। সবমিলে লোকসানের দিকেই যাচ্ছে বেশিরভাগ এয়ারলাইনস। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও যাত্রী কমে গেছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও কমার আশঙ্ক করা হচ্ছে। গত দুদিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইটই বন্ধ হয়ে গেছে। আগামীতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।    

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে বিমানের অনেক ফ্লাইট কমানো হয়েছে। যারা টিকিট কেটেছেন তারা চাইলে অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। আবার টিকিট কাটা যাত্রীরা পরবর্তীকালে ওই টিকিট দিয়েই ভ্রমণ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ১০টি রুটে ১৪২টি ফ্লাইটের মধ্যে বর্তমানে ৬৮টি ফ্লাইট চালু রাখা হয়েছে। ওইসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইটগুলো চলাচল শুরু হবে বলে আশা করছি।

বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলার জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে চীনে আমাদের সাত দিনই ফ্লাইট ছিল। এখন তা কমিয়ে সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট চালু রাখা হয়েছে। ফ্লাইট বন্ধ থাকলে লোকসান কিছুটা হবে এটা স্বাভাবিক। কলকাতার ফ্লাইটগুলো এখনো ঠিকমতোই আছে। অভ্যন্তরে ফ্লাইটও ভালোভাবেই চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কুয়েত সরকার বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সে দেশে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। গতকাল কাতার সরকারও বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সে দেশেও বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুয়ালালামপুর, কাঠমান্ডু, কলকাতা, দিল্লি, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দোহা, জেদ্দা, মদিনা ও কুয়েতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সরকারি এ সংস্থাটি। ওইসব রুটসহ আরও কয়েকটি দেশে ১৪২টি ফ্লাইট চলছিল বিমানের। বর্তমানে তা কমিয়ে ৬৮টিতে আনা হয়েছে।

বিমানের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেসব দেশে ফ্লাইট চলাচল করছে সেখানে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। বিমানের মদিনা ও জেদ্দার রুট বন্ধ হওয়ার আগে যে ফ্লাইট ছিল তাতে গড়ে ১০ জনও যাত্রী ছিল না। তবে বাংলাদেশে আসার সময় তার চেয়ে কিছু বেশি যাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল। তিনি বলেন, বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোরও একই অবস্থা। ইউএস বাংলার কয়েকটি ফ্লাইট চীনে চলাচল করছে। কিন্তু তারাও যাত্রী পাচ্ছে না। রিজেন্ট ও নভোএয়ারেরও একই অবস্থা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিসর, লেবানন, সিরিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার ফ্লাইট চলছে সীমিত আকারে। যাত্রী কমে যাওয়ায় ঢাকা-ব্যাংকক রুটে দৈনিক দুটির পরিবর্তে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে থাই এয়ারওয়েজ। ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটে সাপ্তাহিক একটি ফ্লাইট কমিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস এখন আটটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সপ্তাহে সাতটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। বর্তমানে ঢাকা-গুয়াংজু রুটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস সপ্তাহে তিনটি ও ঢাকা-কুনমিং রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনে স্থগিতাদেশ দেয় সৌদি সরকার। এতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি ওমরাহর জন্য ভিসা করেও যেতে পারেননি।

নভোএয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের কলকাতার ফ্লাইট রয়েছে। সেখানেও করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। কতদিন এভাবে ফ্লাইট চলবে তা নিয়ে তারা চিন্তিত। তাছাড়া বাংলাদেশে তিনজন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়ায় আতঙ্কটা আরও বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও কমে যায় কি না তা নিয়েও তাদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে আশা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। একই কথা বলেন রিজেন্ট এয়ারের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে যেসব ফ্লাইট চলছে তাতে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে কম। ফ্লাইটের সংখ্যা কিছু কমানো হয়েছে। কতদিন এ পরিস্থিতি থাকবে তা নিয়ে সবকটি এয়ারলাইনস কর্র্তৃপক্ষ চিন্তায় পড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত