উইলস লিটলের বাস দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার হাত বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ০১:৫১ এএম

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ে এক শিক্ষিকা ও ১৫ ছাত্র আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে বাসটি ধাক্কা দিলে স্কুলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা সৈয়দা ফাহিমা বেগমের (৪৯) বাম হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার বিচ্ছিন্ন হওয়া হাত জোড়া লাগানো হয়েছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাস্ট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় পা হারান বিআইডব্লিউটিসির হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়।

উইলস লিটলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এই শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়। এই সফরে ১০৫ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক ও চার জন অফিস স্টাফ ছিলেন।

গোপালঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই ঢাকার কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে ১০ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন আবু নাঈম চৌধুরী (১৯), আহডান (১৭), আরমান (২০), সাইমুন (২০), তাওহীদ আহমেদ (১৮), সৈয়দ মাহিদ (২০), অন্তর (১৮), রবিউল ইসলাম (২০), মুহাম্মাদ (১৭), বেল্লাল (৪০), তরিকুল (৩০), শাহরিয়ার (১৮) ও আরাফাত (১৮)।

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুর মোহাম্মদ সিকদার দেশ রূপান্তরকে জানান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শিক্ষাসফরে যাচ্ছিলেন। পথে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা ফাহিমা বেগমের বাম হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনার পর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ছুটে যান। তারা হাসপাতালেও আহতদের খোঁজ-খবর নেন।

রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, জরুরি ভিত্তিতে তার বিচ্ছিন্ন হাতটি জোড়া লাগাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফাহিমার বাম হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হাতটিসহ তাকে নিয়ে আসা হয়। তার অপর হাত, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম রয়েছে। অর্থোপেডিক্স, নিউরো সার্জারির সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে এখন তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার হাতটি জোড়া লাগানো হয়েছে। এরপর তার অন্যান্য জখমের চিকিৎসা চলবে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফাহিমার স্বামী সৈয়দ শফিকুল ইসলাম পুলিশের বিশেষ শাখায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ঢাকায় কর্মরত। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের বাসা ১৫/১৭, শান্তিনগরে। ফাহিমা দুই ছেলের মা। তাদের এক ছেলে জার্মানিতে থাকে। আরেক ছেলে শাহবুদ্দিন মেডিকেল কলেজে পড়ে। শফিকুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী মঙ্গলবার সকালে কলেজের কলেজ শাখার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শিক্ষাসফরে যাচ্ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত