পুলিশকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ০১:৫৭ এএম

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব সদস্যদেরও সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। মাস্কসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছে।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাই সতর্ক আছে। র‌্যাবের প্রতিটি সদস্যকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা আতঙ্ক ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমরা মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে দিয়েছি। মাস্কসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশ সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে আছে সচেতনতা সৃষ্টি, চিকিৎসাসেবা প্রদান, চিকিৎসার সুযোগে সম্প্রসারণ ইত্যাদি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা সব ইউনিটে প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে এ ভাইরাসের যাতে বিস্তার না ঘটে সে বিষয়ে সচেতন হতে সব পুলিশ ইউনিটকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলাপর্যায়ে পুলিশ হাসপাতালগুলো কোয়ারেন্টাইন সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশের কোনো সদস্য জ¦র ও ঠা-ায় আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ হাসপাতাল বা দেশের যেকোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মাস্ক ব্যবহার করতেও বলা হয়েছে। পুলিশ হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক খন্দকার গোলাম ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। এ রোগ নিয়ে কেউ যাতে আতঙ্কিত না হয় সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। থানার প্রতিটি সদস্যসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কভাবে চলতে বলা হয়েছে। জনগণকে আরও সচেতন করতে সিএমপির প্রতিটি সদস্য কাজ করছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদস্যদের সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। ভাইরাস প্রতিরোধে যেসব নিয়মকানুন আছে তা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা জনগণকে সচেতনও করছি। করোনাভাইরাস নিয়ে কেউ আতঙ্ক ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যসহ নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রচার চালানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বেশি সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত