জনস্বার্থ চিন্তা করে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাসের কারণে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদেশি অতিথিরা আসছেন না জানিয়ে এর সঙ্গে ‘রাজনীতির সংযোগ’ না খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াদুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষের যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেটি স্থগিত করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পার্টির পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনোভাবেই যাতে জনগণের কোনো ক্ষতি না হয়। সে কারণে মানবিক বিষয় বিবেচনা করে কর্মসূচি নতুন করে সাজিয়েছেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের অবস্থার উন্নতি হলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে যে কোনো সময়ে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পুনরায় আয়োজন করা হবে জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে বিশেষ ব্যক্তিদের আসার কথা সেটা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। মুজিববর্ষ বছরব্যাপী চলবে। আমরা বছরের যে কোনো সময়ে বিদেশি মেহমানদের উপস্থিতিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে পূর্বঘোষিত যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি তার আয়োজনের জন্য আমাদের সামনে যথেষ্ট সময় আছে। এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সংযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশিষ্ট মেহমানরা কেউ-ই অনুষ্ঠান স্থগিত করেননি। পরিস্থিতির কারণে মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা কর্মসূচির যে পুনর্বিন্যাস করেছেন একে অন্যভাবে উপস্থাপন করার জন্য অনেকে চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে রাজনীতি আনতে চাচ্ছেন। তাদের চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী এখানে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটাতে চাচ্ছেন এবং বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু বাস্তবতা যেটা আমরা সেটাই অনুসরণ করে চলছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, সতর্কতার বিষয় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। সব স্থলবন্দরেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৩ ভাগ লোক মৃত্যুবরণ করেছে। সুতরাং এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে যারা সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, স্যানিটাইজার, সাবান, মজুদ করে অবৈধ মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে এবং এসব পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে এসবের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করেছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। এ সময় করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে অনুষ্ঠান প্রচার করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা লক্ষ করছি কোনো কোনো মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরঞ্জিত করে মানুষকে আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
