গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা সৈয়দা ফাহিমা বেগমের জোড়া দেওয়া হাতে স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত মঙ্গলবার গোপালগঞ্জে ওই দুর্ঘটনায় ফাহিমা বেগমের বাঁ হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে রাতেই হাত জোড়া লাগানো হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন সৈয়দা ফাহিমা বেগম। সকালেও কথা বলেছেন। তাকে স্যুপ খাওয়ানো হয়েছে। আজ তিনি আইসিইউতেই থাকবেন। আশা করি, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তাকে কেবিনে দেওয়া যাবে।’
ডা. কালাম বলেন, ‘তার হাতের হাড় ১০ থেকে ১২ টুকরা হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো জোড়া লাগিয়ে রক্তনালিও জোড়া লাগানো হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন হাড় জোড়া লাগানো এটি প্রথম। এ জন্য এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। আশা করছি, তার হাত সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আনুমানিক চার থেকে পাঁচ দিন পার না হলে হাত কতটা স্টেবল হয়েছে, তা বলা যাবে না। কারণ হাড়সহ ১০ জায়গায় থেঁতলানো ছিল। এই হাসপাতালের জন্য অস্ত্রোপচারটি খুবই বড়। এর আগে ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে ঢাকা কলেজের এক ছাত্রের এ রকম বিচ্ছিন্ন হাতের অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।’
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার হাতের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। এদিন কলেজ শাখার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শিক্ষা সফরে যাচ্ছিলেন সৈয়দা ফাহিমা। পথে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ফাহিমার বাঁ হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
