বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক সভায় আমন্ত্রণ জানিয়ে জেলার চার সাংসদকে দেওয়া পত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’ বানান ভুল লেখা হয়েছে। আবার ওই পর্যালোচনা সভা স্থগিত করে দেওয়া চিঠিতেও একই ভুল করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন এক সাংসদ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দেওয়া ওইসব পত্র ফেইসবুকে ছেড়ে এক সাংসদ ক্যাপশন লিখেছেন ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ পত্রে বঙ্গবন্ধু বানান’।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২০ উদযাপনে পর্যালোচনা সভা উপলক্ষে গত ৯ মার্চ সাতক্ষীরার ৪ সাংসদকে জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার ইন্দ্রজিত সাহা আমন্ত্রণপত্র পাঠান। ওই পত্রে ১১ মার্চ বুধবার দুপুর ১২টায় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। চিঠিতে ‘বঙ্গবন্ধু’ বানান তিন স্থানে ‘বঙগবন্ধ’ লেখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সাংসদ গত মঙ্গলবার সকালে ফেইসবুকে আমন্ত্রণপত্রের ছবি পোস্ট করেন। ভুল বানানের শব্দ তিনটি মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করেছেন তিনি। ক্যাপশন লেখেন ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ পত্রে বঙ্গবন্ধু বানান’। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হচ্ছে। এরপর ওই সাংসদ আরও একটি চিঠির ছবি তার পোস্টে সংযুক্ত করেন। সেখানে দেখা যায়, পর্যালোচনা সভাটি স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতেও বঙ্গবন্ধু বানান তিন জায়গায় ভুলভাবে ‘বঙগবন্ধ’ লেখা হয়েছে। সভা স্থগিতের চিঠিটিও ৯ মার্চ ইস্যু করা হয়েছে। আর দুটি চিঠি একই স্মারকে প্রকাশ হয়েছে। শেষের চিঠিতে সভা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলেও চিঠির শেষ অংশে লেখা ‘বর্ণিত সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে সবিনয়ে অনুরোধ করা হলো’। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক আসিফ শাহবাজ খান এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল বুধবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন।
চিঠি দুটির ভুল নিয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ‘অফিস সহকারী ভুল করে এমনটা করে ফেলেছেন, যদিও আমার এটা দেখা উচিত ছিল। পরবর্তী চিঠিটিও আগের চিঠি থেকে কপি করতে গিয়ে ভুল হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত করণিকের মিসটেক। সভাটি স্থগিত করা হবে বিধায় প্রথম চিঠিটি বিতরণ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু এমপি স্যারের বাসায় চিঠি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তাই সভা স্থগিতের আরেকটি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।’ একই স্মারক ও তারিখে চিঠি দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আগের চিঠির স্থলে প্রতিস্থাপিত হয়েছে মর্মে করা যায়।’
