ক্ষতিপূরণ ৪ কোটি টাকা পাচ্ছেন কুশল পেরেরা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২০, ১২:৩০ এএম

দুশ্চিন্তায় পড়া ও নিষিদ্ধ হওয়াটা পোয়াবারো হয়েছে শ্রীলঙ্কান ওপেনার কুশল পেরেরার জন্য। দুই বছর আগে নিউজিল্যান্ড সফর চলাকালীন তাকে নিষিদ্ধ করেছিল ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা)। কিন্তু যে রিপোর্টের ভিত্তিতে পেরেরার বিপক্ষে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণে ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছেন এই ওপেনার। সেই অঙ্কটা ৫ লাখ ডলার। ক্ষতিপূরণের টাকা তো পাবেনই, সঙ্গে শাস্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যে বাড়তি ১ লাখ ডলার খরচ হয়েছে সেটাও ওয়াডার কাছ থেকে পেতে যাচ্ছেন পেরেরা।

২০১৫’র ডিসেম্বরে পেরেরার বিরুদ্ধে পারফরম্যান্স বর্ধক ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার নমুনা পরীক্ষায় ‘নোরানড্রোস্টেনেডিওন’ ড্রাগ পাওয়া যায় বলে জানায় ওয়াডা। এই রিপোর্টের পর তাকে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা শোনানো হয়। তবে ২০১৬’র মে মাসে ওই রিপোর্টগুলো নির্ভুল নয় বলে আইসিসি পেরেরার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। ওই সময় আইসিসি একটি বিবৃতিতে জানায়, কাতারের যেই পরীক্ষাগারে ওয়াডা পেরেরার নমুনা পরীক্ষা করেছিল তাদের রিপোর্টে ভুল আসে। তাই পরীক্ষাগারটি তাদের রিপোর্ট তুলে নিয়েছে। কিন্তু নিষিদ্ধ থাকা ছয় মাসের মধ্যে পেরেরা ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ মিস করেন।

তবে এই ছয় মাসে ওয়াডার শোনানো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যান পেরেরা। নিজেকে ড্রাগমুক্ত প্রমাণের জন্য ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফর শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয় তাকে। বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পেরেরাকে। এমনকি পলিগ্রাফ টেস্টও দিতে হয়েছে। এই টেস্টে যন্ত্রের মাধ্যমে কেউ সত্য-মিথ্যা বলছে কি না তা যাচাই করা হয়। এইসব পরীক্ষার খরচ পেরেরাকেই বহন করতে হয়েছিল। এই সময় ক্রিকেট বোর্ডকে পাশে পেয়েছিলেন পেরেরা। সব খরচ লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডই বহন করে। তবে ২০১৬তে খেলা থেকে পেরেরার বাধা উঠে যাওয়ায় নিজের ম্যাচ ফি থেকে বোর্ডের দেনা মিটিয়েছেন পেরেরা।

এতদিন আইনি লড়াইয়ের পর নিজের দিকে রায় আসায় স্বস্তি পেরেরার জন্য। খুশির খবর সব তথ্য-উপাত্ত বলছে পেরেরা নিষিদ্ধ কোনো ড্রাগ নেননি। নিষিদ্ধ থাকার সময় ছয় মাসে বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলতে পারেননি এই ক্রিকেটার। সেগুলো থেকে যতটা আয় করতেন তা হিসাব করে এবং অন্যান্য আয়সহ সব অর্থ ওয়াডার কাছ থেকে পেতে যাচ্ছেন তিনি, যা প্রায় ৫ লাখ ডলারের সমান। এছাড়া তার আইনি খরচ হিসেবে ১ লাখ ডলারও পাবেন পেরেরা। কাতারের সেই পরীক্ষাগারকে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করেছে ওয়াডা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত