‘আতঙ্ক-রুদ্ধ আবেগ একসময় উদযাপন করব সবাই’

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২০, ১২:৪২ এএম

করোনা আতঙ্কে বিশ্বব্যাপী চলমান সব খেলাধুলার ইভেন্ট প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গতকাল পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৫৯৬০ জন। আক্রান্ত প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার। আতঙ্কে গণজমায়েত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। এটা কার্যকর করতেই ফুটবল এবং ক্রিকেট ম্যাচের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিংবা খেলা হচ্ছে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া দর্শকশূন্য গ্যালারিকে সাক্ষী করে প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। সেই ম্যাচে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কলাম লিখেছেন ইয়ান চ্যাপেল। তার মতোই করোনা আতঙ্কে ক্রিকেটের বিপর্যস্ত অবস্থা নিজের কলামে তুলে ধরেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আর্থারটনও। লন্ডন টাইমসে তিনি লিখেছেন, ‘করোনা আতঙ্কে শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল করেছে ইংল্যান্ড। আইপিএল পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৭ দিন। পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে দর্শকশূন্য, রুদ্ধ স্টেডিয়ামে। খেলাধুলার এমন পরিস্থিতি অভূতপূর্ব। ফাঁকা স্টেডিয়ামে খেলা দেখে কিছু জরুরি প্রশ্নও ঘুরছে মনের মধ্যে। পেশাদার খেলাধুলায় যেখানে বিনোদনই শেষ কথা সেখানে যদি দর্শকই না থাকে তো খেলার কী মানে হয়? আমি বলতে চাইছি চারপাশে এমন সার্কাস চালানোর মানে কী? আমার মতে সব বন্ধ

থাক। তারপর পরিস্থিতির উন্নতি হোক। করোনাভাইরাস পরাজিত করার পর সব কিছু স্বাভাবিক হলে না হয় আবার শুরু করা যাবে। আর তখন আতঙ্ক-রুদ্ধ আবেগ নির্দিষ্ট বিরতির পর নতুন করে উদযাপন করব সবাই।’ পাঠকের জন্য ইয়ান চ্যাপেলের কলামের আংশিক তুলে ধরা হলো-

বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বাতিল হওয়ার মতোই বাতিল হচ্ছে খেলাধুলার ইভেন্ট। করোনাভাইরাস মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ক্রিকেটের নাম, যখন ইংল্যান্ডে স্থগিত করা হলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। ইতালিতে বাতিল হলো সব খেলাধুলার ইভেন্ট, আমেরিকা স্থগিত করল বেসবল এবং বাস্কেটবলের ইভেন্টÑ তখন নিশ্চিত হওয়া গেল যে খেলাধুলা আর গুরুত্ব বিবেচনায় শীর্ষে নেই। করোনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিপদ সংকেত শোনা যাচ্ছে। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপদ থাকা।

ক্রিকেটে করোনাভাইরাসের অন্যতম শিকার আইপিএল। প্রথমে বলা হয়েছিল দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে প্রধান গেট বন্ধ করে খেলা হবে। পরে গণস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ১৪ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে আইপিএল। আমার ধারণা স্বাস্থ্য ইস্যুর সঙ্গে আর্থিক ভাবনাও জড়িয়ে আছে এই সিদ্ধান্তের পেছনে। দর্শকশূন্য থাকার ক্ষতি কে স্বীকার করতে চায়।

গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ স্থগিত হওয়ার ঘটনা খুব বিরল। এমন ঘটনার নজির খুঁজে পেতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্ধকার যুগে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৪ সালের শুরুতে টেস্ট খেলা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল, যা স্থগিত ছিল ১৯২০ সাল পর্যন্ত। সময়ের দৈর্ঘ্য আরও বেড়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ১৯৩৯ সালের আগস্ট মাস থেকে ১৯৪৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বন্ধ ছিল টেস্ট ক্রিকেট। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের কারণে শেফিল্ড শিল্ড এবং কাউন্টি ক্রিকেটের বড় অংশ বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কাউন্টিতে কিছু খেলা হয়েছিল তখন। চাপের মধ্যে যা নিয়ে তৈরি হয়েছে চমৎকার গল্পও।

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ (শুক্রবার) সিডনির দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হয়েছে। এরপরই সিরিজ বাতিল ঘোষণা করা হয়। সিডনিতে এমন ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা আমার প্রথম। এমন শূন্য খাঁ-খাঁ, পিনপতন নীরবতার মধ্যে ক্রিকেট আগে দেখিনি। নীরবতাতে অস্বস্তি লাগছিল। আমি এমন একজন যে অন্য যেকোনো পরিস্থিতিই হোক না কেন দর্শকের উপস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষপাতি নই। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে অন্যভাবে ভাবতে হচ্ছে।  করোনা সবকিছু বদলে দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে অন্য কোনো কিছু নয় একমাত্র নিরাপদ স্বাস্থ্যই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত