তদবির করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইউরোপের ফ্লাইট

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ০৩:১১ এএম

করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনো দেশ থেকে যাত্রী আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনেই ইতালির ৬৮ জনসহ ইউরোপ প্রবাসী ৯৬ বাংলাদেশিকে নিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট। এরপর তাদের সবাইকে পাশের হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ‘বিশেষ তদবিরে’ কাতার এয়ারওয়েজকে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সব যাত্রীকেই কাতার  এয়ারওয়েজে করেই ফেরত পাঠানো হতো।

এদিকে ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় পাল্টে গেছে বিমানবন্দরের চিরচেনা রূপ। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিমানবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, অন্যদিনের মতো যাত্রীদের ভিড় নেই। প্রতিটি চেক ইন কাউন্টার প্রায় ফাঁকা। এ সময় মাত্র ৩৭টি ফ্লাইট ওঠানামা করে।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাত্র এক দিন আগেই রবিবার রাতে বেবিচক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের কোনো দেশ থেকে যাত্রী আনতে পারবে না কোনো এয়ারলাইন্স। যদি কেউ নিয়ে আসে তবে তাদের খরচেই ফেরত পাঠানো হবে। তবে সোমবার সন্ধ্যায় আসা কাতার এয়ারওয়েজের যাত্রীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বিশেষ তদবিরে’ ঢাকায় আসতে দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জার্মানি থেকে ফ্লাইটটি দোহা আসে। এরপর ফ্লাইটটির দোহা থেকে রওনা হয়ে ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। তবে কাতারের পরিস্থিতি ও করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় ফ্লাইটটি আসতে নিষেধ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এটি এলেও ঢাকায় অবতরণ করতে দেওয়া হবে না। তবে পরে দোহা কর্র্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে অনুমোদন নিয়ে নেয় এবং বিলম্বে রওনা দেয়।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান জানিয়েছেন, বেবিচক চেয়ারম্যান হিসেবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমে ফ্লাইটটি আসার অনুমতি দেইনি। কিন্তু তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন চ্যানেলে যোগাযোগ করে পারমিশন নিয়েছে। মানবিক কারণ দেখিয়েছে, হয়তো সরকার সেজন্য পারমিশন দিয়েছে। ফ্লাইটটিতে যারা আসছেন সবাই বাংলাদেশি। যেহেতু চলেই আসছে, সেহেতু ওই ফ্লাইটের শতভাগ যাত্রীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কাতারের ফ্লাইটটিতে মোট ৩০৪ জন যাত্রী ছিল, যাদের মধ্যে ৯৫ ছিলেন ইউরোপের। তার মধ্যে ইতালির ৬৮ জন ও জার্মানির ২৭ জন। বাকি যাত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের। তবে ওই ৯৫ জনকেই বাধ্যতামূলকভাবে আশকোনার কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও ভারতের পর এবার ওমানে বন্ধ হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। আজ ১৭ মার্চ থেকে কোনো দেশের নাগরিকই ওমানে ঢুকতে পারবে না। ওমানের এই সিদ্ধান্তের কারণে মাস্কট রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ রুটে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করত বিমান। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোকাব্বির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ওমানের সুপ্রিম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ মার্চ মধ্যরাত থেকে ওমানের নাগরিক ছাড়া কেউ সেদেশে প্রবেশের অনুমতি পাবে না। এ কারণে সোমবারই এই রুটে বিমানের শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম থেকে মাস্কটগামী বিজি ১২১ ফ্লাইটটি ৩ ঘণ্টা এগিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ছাড়া হয়। তিনি জানান, এত সংকটের মাঝেও ওমরাহ হজ ও বিভিন্ন কারণে সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট সৌদি যাচ্ছে। আজ সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে ছেড়ে আসবে বিমান বাংলাদেশের এই ফ্লাইটটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত