সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম প্রস্তুতি নেই

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ০২:১২ এএম

চট্টগ্রাম করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন। কিন্তু এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে হাসপাতালে শুধু নির্দিষ্ট শয্যার ব্যবস্থা ছাড়া প্রতিকারমূলক তেমন কিছুই নেই চট্টগ্রামে। কারও সংক্রমণ হলে সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবায় যে চিকিৎসকরা নিয়োজিত হবেন তাদের জন্য নেই সুরক্ষা উপকরণ। এমনকি এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে আগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে হ্যান্ড হোল্ড ইনফ্রারেড থার্মোমিটার দিয়ে। অন্যদিকে জনসমাগম না করতে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আহ্বান জানালেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের প্রার্থীরা মানছেন না এ নির্দেশনা।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলা সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে। কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর আছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা ও ইউরোপ প্রবাসী নাগরিকের সংখ্যা অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি হওয়ায় এখানে তাদের আসা-যাওয়াটা বেশি। আমাদের প্রথম কাজ এন্ট্রি পয়েন্টে আক্রান্ত কেউ থাকলে চিহ্নিত করা। কিন্তু শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি থার্মাল স্ক্যানার থাকলেও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এখনো হ্যান্ড হোল্ড ইনফ্রারেড থার্মোমিটার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার থাকায় এখন দ্রুত তাপমাত্রা পরিমাপ করা যাচ্ছে ফলে সময়ও কম লাগছে। কিন্তু চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কোনো থার্মাল স্ক্যানার নেই।’

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চসিক নির্বাচনের প্রার্থীদের সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও জনসমাগম না করতে গত সোমবার আহ্বান জানায় চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন। কিন্তু প্রার্থীরা এসব মানছেন না। নগরীর প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিনই মিছিল-মিটিং চলছে। আগামী ২৯ মার্চ নির্বাচন হওয়ায় এখন পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠকও করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পাশাপাশি অলিগলিতে চলছে নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন। তবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ কাউন্সিলর প্রার্থীই ভোটারদের বাসায় বাসায় গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তাদের মাধ্যমেই জনসমাগম বেশি হচ্ছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেখানে গণজমায়েত সেখানেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের নির্বাচন তো মিছিল-সমাবেশের শোডাউন। অন্তত গণস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় এবার এটা বিসর্জন দিতে হবে। প্রয়োজনে ডিজিটাল মাধ্যমের সহায়তা নেওয়া হোক। মোবাইলের মেসেজ এবং রেডিও-টিভির স্ক্রল দিয়ে প্রচার চালানো যেতে পারে।’

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসলেও সমুদ্রবন্দরে এখনো আগতদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপে ব্যবহার হচ্ছে হ্যান্ড হোল্ড ইনফ্রারেড থার্মোমিটার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোতাহার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের খুব প্রয়োজন। বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার দেওয়ায় একসঙ্গে ৮-১০ জনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা যাচ্ছে। সমুদ্রবন্দরে যদি এটা থাকত তাহলে দ্রুতভাবে বিদেশ থাকা আসা জাহাজের নাবিক ও সংশ্লিষ্টদের তাপমাত্রা রেকর্ড করা যেত।’

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে রোগীদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সুরক্ষা উপকরণের সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আমাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। কিছুদিন পর আমরা সরঞ্জাম পাব। করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষ অ্যাপ্রোন যদি না থাকে তাহলে রেইনকোট অথবা দুটো সাধারণ অ্যাপ্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। কারও কাছে মাস্ক না থাকলে তিন লেয়ারের কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবেন। হাতে নরমাল গ্লাভস পরলেই চলবে।’

চট্টগ্রাম নগরীতে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রকোপ সামাল দিতে সাড়ে তিনশ শয্যা এবং চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১৬০০ শয্যা প্রস্তুত থাকলেও রোগটি নির্ণয়ের কোনো কিট বর্তমানে চট্টগ্রামে নেই। কারও প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে আইইডিসিআরে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা সিভিল সার্জন জানান, নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেই কিট ঢাকার বাইরে যাবে। তাই চট্টগ্রামেও কিট দেওয়া হয়নি। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে কিট আনা হবে। কিট বাইরে গেলে ডেঙ্গুর মতো কিট নিয়ে ব্যবসা শুরু হবে এজন্য এখনো বাইরে দেওয়া হয়নি। 

চট্টগ্রামে করোনার সম্ভাব্য প্রকোপ মোকাবিলায় প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জনগণকে সচেতন হতে হবে। কোনো গুজবে কান না দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, সেখান থেকে যেকোনো বিষয় জানতে পারবে সবাই। আমরা নিয়মিত গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আপনাদের সব বিষয়ে অবগত করছি। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়নি। গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে তথ্য যাচাই এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত বিদেশফেরত মোট ৩১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত