সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের মতো শত্রুকে পরাজিত করবেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকালে বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা জানান তিনি। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু এখনো দেশে হয়নি বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যেই ভাইরাস চীন থেকে ইউরোপ, আমেরিকাসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে আমরা মুক্ত থাকবসেটা বলা যায় না। তবে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই ভাইরাস মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। করোনা
মোকাবিলায় আমারা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াস, সম্মিলিত উদ্যোগে করোনা যত বড় শত্রুই হোক, আমরা এই শত্রুকে পরাজিত করব।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা ঝুঁকিতে আছিএটা নিঃসন্দেহে বলা চলে। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু এখনো আমাদের দেশে হয়নি। সে রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আমাদের এখানে ১৮ জন এই পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও ঝুঁকি আছে, কারণ এটা সারা বিশ্বে মহামারী ভাইরাসে পরিণত হয়েছে, যাতে বিশ্ব আতঙ্কিত।
তিন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন পেছানোর জন্য বিএনপি যে দাবি জানিয়েছে সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলরা কখন কী বলেন, তারা সবকিছুতেই রাজনীতির ইস্যু খুঁজে বেড়ান। নির্বাচনের বিষয়টা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এ সময়ে তারা যদি নির্বাচন পেছাতে চান, সেটা তাদের বিষয়। এখানে সরকারের কোনো করণীয় নেই। আর নির্বাচন কমিশন তো সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না, তাদের সিদ্ধান্ত তারাই নেয়। ফখরুল সাহেব নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটা মানা না মানা ইসির বিষয়। করোনাভাইরাসের মধ্যেও সরকার বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন করছেবিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের ওপর সরকার কীভাবে নির্যাতন করছে, তা আমার জানা নেই। এর কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই৷ তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আসুক তারপর দেখা যাবে। কিন্তু ঢালাওভাবে অভিযোগ তাদের পুরনো অভ্যাস।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আমাদের দেশের একজন বরেণ্য রাজনীতিবিদ এবং সৎ ও সাহসী রাজনীতিক। তিনি স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি বলেন, সংকটে সাহসী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে জিল্লুর রহমান সাহেব এ দেশের সবার কাছে প্রিয়। বিশেষ করে ১-১১ সময়ে যখন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা কারাগারে ছিলেন সেই সংকটের সময় তিনি যে সাহস ও নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং দুঃসময়ে তিনি ছিলেন দলের ঐক্যের প্রতীক। তিনি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তার সংগ্রাম ও আন্দোলন ছিল আমাদের উৎসাহের প্রেরণা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।
