বিদেশফেরতদের শতভাগ কোয়ারেন্টাইনের সুপারিশ

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ০১:৫৪ এএম

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের কিছুতেই হোম কোয়ারেন্টাইন মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। এসব ব্যক্তি স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না। জোর করে রাখলেও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি যারা থাকছেন তারাও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে চরম অবহেলা করছেন। আইনি বাধ্যবাধতার পরও গাফিলতি করছেন। এ অপরাধে বিভিন্ন জায়গায় জেল-জরিমানা করা হলেও বিদেশফেরত এসব ব্যক্তিকে নিয়ম মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে বাধ্য করা যাচ্ছে না।

ফলে এসব বিদেশফেরত ব্যক্তি থেকে ইতিমধ্যেই রোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই সংক্রমিত করেছেন বাবা, স্ত্রী, শিশুসন্তানদের। এমনকি করোনা আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক তরুণ গোপনে দেশে ফিরে তার বাবাকে সংক্রমিত করে আবার গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। শেষ অবধি করোনায় দেশে মৃত্যুর প্রথম রেকর্ড করে সেই অসহায় বৃদ্ধ বাবা মারা যান। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) গতকাল পর্যন্ত যে ১৭ জনের করোনায় আক্রান্তের তথ্য জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আটজনই তাদের বিদেশফেরত স্বজনদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে বৃদ্ধ, নারী, তরুণী ও শিশু রয়েছে। আক্রান্ত বাকি নয়জনের মধ্যে আটজন ইতালিফেরত ও একজন জার্মানিফেরত।

এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিদেশ থেকে আগতরা বিমানবন্দরে নেমে স্ক্যানিং শেষে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে যাবে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ কাজে সেনাবাহিনীকে স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় সহায়তা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তৃতির সম্ভাব্যতা এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুটি কোয়ারেন্টাইনের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সেগুলো হলো বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ ক্যাম্প এবং উত্তরার দিয়াবাড়ী সংলগ্ন রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কোয়ারেন্টাইন। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকে কোয়ারেন্টাইনে স্থানান্তর, ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম, কোয়ারেন্টাইনে খাওয়া থেকে আনুষঙ্গিক সেবার ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে ১৬ মার্চ যে নারী ও দুই শিশু, ১৭ মার্চ যে বৃদ্ধ (পরে মারা যান) ও গতকাল যে তিনজন (দুই পুরুষ, বয়স ৬৫ ও ৩২ বছর; ২২ বছরের নারী) তাদের বিদেশফেরত স্বজনদের দ্বারা আক্রান্ত হন, তাদের মাধ্যমে রোগটি কমিউনিটিতে (সামাজিকভাবে) ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি সরকারের কড়া নজরদারির আগে তথ্য গোপন করে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়া বিদেশফেরতদের মাধ্যমেও রোগটি ইতিমধ্যেই কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সে নিয়ে শঙ্কিত আইইডিসিআর।

এজন্য আইইডিসিআর এখন করোনা সন্দেহের পাশাপাশি নিউমোনিয়া রোগীদেরও পরীক্ষা করছে। এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, নিউমোনিয়া পরীক্ষা থেকে করোনা কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানা যাবে। সেজন্য আমরা রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোকে নিউমোনিয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করতে বলেছি। আমরাও দেশের ১৯টি জায়গা থেকে নিউমোনিয়ার নমুনা সংগ্রহ করছি। তবে এখন পর্যন্ত কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ার কোনো তথ্য মেলেনি।

এমন অবস্থায় এখনো রোগটি নিয়ন্ত্রণের সময় রয়েছে বলে মনে করছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের পরামর্শক ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদেশফেরতদের ব্যাপারে কিছুটা গাফিলতি হয়েছে। তারা ছড়িয়ে পড়েছে। তারপরও কঠোর ব্যবস্থা নিলে এখনো রোগটি ছড়িয়ে পড়া ও মৃত্যু কমাতে পারি। যদিও হোম কোয়ারেন্টাইন একটি ‘লুজ’ পদ্ধতি। তারপরও যেহেতু কিছু মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করতে হবে। বিশেষ করে বেশি আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ফেরা মানুষদের অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। এর সীমা বাড়াতে হবে।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিন ক্যাটাগরির মানুষের পরীক্ষা করতে বলেছে ১. বিদেশফেরত ২. কেউ যদি ওই বিদেশফেরতদের সান্নিধ্যে যান এবং ১৪ দিনের মধ্যে তার উপসর্গ দেখা দেয় ৩. জ¦র, সর্দি, কাশি নিয়ে কেউ যদি হাসপাতালে ভর্তি থাকে ও নিশ্চিত নিউমোনিয়ার রোগী হয়।

এ রোগতত্ত্ববিদ বলেন, এখনো দেশে নিউমোনিয়া রোগীদের পরীক্ষা ঠিকমতো হচ্ছে না। শুনেছি আইইডিসিআর এ পর্যন্ত নিউমোনিয়ার মাত্র ২০টি নমুনা পরীক্ষা করেছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের একটা বড় অংশ পরীক্ষার বাইরে থেকেই যাচ্ছে। করোনার উপসর্গ নিউমোনিয়ার মতো। তাই নিউমোনিয়ার পরীক্ষা করা গেলে বোঝা যাবে করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল থেকে সরকার আরও কঠোর হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষদের রক্ষা করতে বিদেশফেরত প্রতিটি যাত্রীকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এজন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল এভিয়েশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্য করতে বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বিদেশিদের বাইরে ঘুরতে দেখতে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে সোপর্দ করে জরিমানা ও কারাদ- দিতে। বিদেশ থেকে এসে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় গতকাল পর্যন্ত ২০ জেলায় অর্ধশতাধিক প্রবাসীকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার ১৫ জেলায় ৩৪ ব্যক্তিকে বিভিন্ন দণ্ড দেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সব বাজারের ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান বাদে সব ধরনের দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায় প্রয়োজনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজশাহী বাসমালিক সমিতি ঢাকার সঙ্গে জেলার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে। জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকাজে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ ব্যবহারে ওই মাঠ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সব মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।

এদিকে করোনার এমন ঝুঁকির মধ্যেও প্রবাসী ও বিদেশিদের দেশে ফেরা থামেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুটি সমুদ্রবন্দর ও ২৭টি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসা ৭ হাজার ২৩৬ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ঢুকেছেন ৩ হাজার ১৬৯ জন। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ২১১ এবং স্থলবন্দর দিয়ে ৩ হাজার ৮৫৬ জন দেশে ঢুকেছেন। তারা ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ভারত, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও চীন থেকে আসেন। এ নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন পথে দেশে ঢোকা ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৪ জনকে স্ক্রিনিং করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া স্ক্রিনিং সংখ্যার সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সংখ্যার তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশ থেকে আসা ৭ হাজার ২৩৬ জনকে স্ক্রিনিং করা হলেও ২ হাজার ৬৯৮ জনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার তথ্য দিয়েছে অধিদপ্তর। অর্থাৎ স্ক্রিনিং করা ৪ হাজার ৫৩৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে নেই।

এর মধ্যে গতকাল সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন ৩৮৩ বাংলাদেশি। সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা বিকেলে দেশে এসে পৌঁছান। যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের দেশগুলোতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করলেও সৌদি আরবে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সবার স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে এলে এবং কাউকে সন্দেহ হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণদের আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখছি। এখন কারও পক্ষে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়।

হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদেশফেরতদের হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা গেলেই রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। কারণ এরাই তাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের মধ্যে রোগটি ছড়াচ্ছে। এমনকি কমিউনিটিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে বন্দি করে ফেলতে হবে।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, করোনার সোর্স আমাদের জানা। শুধু বিদেশফেরতরাই রোগটি ছড়াচ্ছে। এমন নয় যে রোগটির ভাইরাস প্রকৃতিতে রয়েছে। যদি এসব ব্যক্তিকে ব্যারিকেড দিয়ে ফেলতে পারি তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এখনো সময় আছে উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো মানা হচ্ছে না বলে আমরা কমিউনিটি লেভেলে নিউমোনিয়া পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি। সেখানে কারও মধ্যে পজিটিভ পেলে তাকে আমরা আইসোলেশনের নিয়ে যাব।

বিদেশফেরতদের ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ একগুচ্ছ নির্দেশও দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রোগ্রাম, ট্রেনিং বা সাধারণ লোকজন যেই (বিদেশ থেকে) আসুক, তাকে অবশ্যই ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে, এ বিষয়ে কারও ছাড় নেই, এটা স্পষ্ট।’ যদি কেউ কোথাও এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করেন, তার বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে বা নির্দেশনা না মানলে সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকার শাস্তির বিধান রয়েছে। আর মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। আইন প্রয়োগ করাও শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ বিষয়ে কঠোর হতে জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা বিদেশফেরতদের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কিছু ঘটনা আইইডিসিআরের নজরে এসেছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে না পারলে এ রোগের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা আবারও অনুরোধ করছি, যারা বাইরে থেকে আসছি, তারা যেন পরিবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখি। আমরা যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছি তাতে সমাজ থেকে তাদের দূরে রাখতে পারব। যদি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দূরে রাখা না যায়, তাহলে এ রোগের সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত