রাজধানীর উত্তরায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবরে রিজেন্ট হাসপাতাল ঘেরাও করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
রবিবার সন্ধ্যায় এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তার দুপাশে ব্যারিকেড দিয়ে হাসপাতালটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসীর দাবি বলছেন, আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা এ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের তারা চিকিৎসা দিতে দেবেন না। তাদের অভিযোগ হাসপাতালটিতে গ্রাম থেকে রোগী এনে চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়া সামান্য হাত ভাঙার কারণে হাসপাতালটিতে গেলেও আইসিইউতে ঢুকিয়ে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেয়া হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা রোগী এই ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হবে এমন গুজবে এলাকার লোকজন জড়ো হয়েছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবহিত করা হবে। কল্যান সমিতির নেতাদের বলেছি- সবাইকে শান্ত থাকতে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষে সাথে যারা চুক্তি করেছে তাদের সাথে কথা বলতে।
পুলিশ এ কথা জানানোর পর এলাকাবাসী শান্ত হন। তারা আপাতত ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুনরায় রোগী রাখার চেষ্টা করলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতাল। এমনিতেই আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল থাকা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর এখানে করোনা আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
উত্তরা ১১ নম্বর কল্যাণ সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান মুরাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহল্লার ভেতর গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে। এ ছাড়া করোনার রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেয়া হবে শুনে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে।
তিনি বলেন, পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। হাসপাতালটিতে যাতে করোনার রোগীদের চিকিৎসা না দেয়া হয়, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
একই কথা বলেছেন, কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফুর রহমান। তিনি বলেন, জীবন দিয়ে হলেও এলাকার শান্তি-পরিবেশ বজায় রাখব। সেক্টরের ভেতরে কোন করোনা রোগী চিকিৎসা করাতে দেয়া হবে না। রিজেন্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন নানা ধরনের অভিযোগ করে বলেছেন ক্লিনিকটি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে।
প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা রিজেন্ট গ্রুপের হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কক্ষে রিজেন্ট হাসপাতালের পক্ষে এই সমঝোতা চুক্তিতে সাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ।
