সেনাবাহিনী আরও আগে নামানো উচিত ছিল : ফখরুল

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ০৬:৩৬ এএম

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আরও আগে সেনাবাহিনী নামানো উচিত ছিল বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ফেইসবুক লাইভে এসে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ফেইসবুক পেজ থেকে এ অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দলের স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেন তিনি।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আজ মঙ্গলবার দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের ছুটি ঘোষণা ও বিভাগীয়-জেলা পর্যায়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও আমি মনে করি যে, সরকার বুঝতে পেরেছে। করোনা নিয়ে মন্ত্রীদের নানা বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা এমন এমন উক্তি করেছেন যা মানুষের এই আতঙ্কের মধ্যেও একটা উষ্মা ও খেদের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। প্রত্যেকটি হাসপাতালে একেকটা টিম থাকা দরকার যে টিমের কাজ হবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার কাজটুকু করা। এ সময় দেশের ৬৩ জন বিশিষ্ট নাগরিকের দেওয়া যুক্ত বিবৃতির প্রতি সমর্থনও জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আমাদের তরফ থেকে যতটা সম্ভব অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে যেন সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ রাখা হয় সেকথা বলেছি এবং তারা আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে সেটা তারা করছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণের সময় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা অমানবিক ও অনৈতিকও বটে। আমরা আশা করব যে, গণমাধ্যমের যারা মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় আছেন তারা এই বিষয়টাকে অবশ্যই বিবেচনা করবেন। এ সময় করোনাভাইরাসের সংবাদ প্রকাশে জনসচেতনতায় গণমাধ্যম যে ভূমিকা রাখছে তার প্রশংসা করেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

‘বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যার দিন আজ’ : বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। এদিন সামরিক ফরমান জারি করে শহীদ জিয়ার পুনরুজ্জীবিত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাক, ব্যক্তি, বিবেক, মুদ্রণ ও সমাবেশের স্বাধীনতাসহ মানুষের সকল নাগরিক স্বাধীনতা।’ তিনি বলেন, ‘স্বৈরশাসক এরশাদের সঙ্গে অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্তমান অগণতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর আঁতাত পুনরায় বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের পথচলাকে আটকিয়ে দিয়ে দেশের মানুষকে খাঁচায় বন্দি করেছে। দেশে এখন মানুষের বাক, ব্যক্তি, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ সকল নাগরিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে অপহৃত করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত