১৫ করোনায় আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২০, ১২:৪৮ এএম

দেশে করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বয়স ৭০ বছরের বেশি। তিনি একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে দেশে রোগটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি পাঁচজনের একজন ওমরাহ করে ফিরেছেন এবং চারজন আগের রোগীদের সংস্পর্শে থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে করোনাভাইরাসসংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয়ও তুলে ধরেন আইইডিসিআর পরিচালক।

ডা. ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। সব মিলে এখন পর্যন্ত ৭১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলো। ডা. ফ্লোরা আরও জানান,  গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে ১ হাজার ৭০০টি কল এসেছে। এর সবই করোনাভাইরাসসংক্রান্ত। করোনায় নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছেন অথবা সংক্রমণের সন্দেহে রয়েছেন এমন ৪০ জন হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন। সারা দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪৬ জন।

আইইডিসিআর জানায়, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৭ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৬ হাজার ২৩৫ জন। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ হাজার ৮৮৭। এ ছাড়া হাসপাতাল ও অন্যান্য কোয়ারেন্টাইনে (প্রাতিষ্ঠানিক) রয়েছেন ১৩৭ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৭ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২৮৩ জন, সমুদ্রবন্দর দিয়ে ২৪৬ জন ও স্থলবন্দর দিয়ে ২ হাজার ৭৭৯ জন দেশে প্রবেশ করেছেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের স্ক্রিনিং করেছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সবার মনে একটা বিভ্রান্তি রয়েছে যে সর্দি-কাশি-জ্বর হলেই করোনা এবং এতে মৃত্যু হলেও করোনাকে দায়ী করা হচ্ছে। এ জন্য আমরা বেশ কিছু পরীক্ষা করেছি। কিন্তু তাতে করোনাভাইরাস পাইনি। এখন ডেঙ্গু ও সাধারণ ফ্লুর সিজন। ফলে সবকিছুই করোনা সন্দেহ হলে এ দুই রোগের চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটবে। সুতরাং সব কভিড-১৯, এমনটা ভাববেন না।   

বাংলাদেশে এ ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। এ সময় সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এ ছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা ও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত