বিপিএল বন্ধে বিদেশিদের নিয়ে বিপাকে ক্লাবগুলো

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২০, ১১:৩৩ পিএম

একদিন আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ১৩টি ক্লাব ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে তাদের ক্যাম্প। দৈনন্দিন খরচ তাতে কমে গেলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই ক্লাব কর্তারা। লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন নতুন চিন্তায় পড়েছে বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ক্লাবে অর্ধশতাধিক ভিনদেশি খেলছেন। অধিকাংশই এসেছেন আফ্রিকা মহাদেশ থেকে। অনেকেই এসেছেন মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপ থেকে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র তিন-চারটি রুটে চলছে বিমান। এ অবস্থায় এই ভিনদেশিরা চাইলেও ফিরতে পারছেন না দেশে। তারা এখন দাবি তুলছেন বেতনের। লিগ অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও দিতে হবে ভিনদেশিদের বেতন। শুধু তাই নয়, রাজধানীতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে ক্লাবগুলোকে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় মাঝারি সারির ক্লাবগুলো।

রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ বলেন, ‘আমরা আসলে বিদেশিদের নিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছি। কারণ তারা প্রত্যেকে তাদের পরিবার নিয়ে চিন্তিত। তারা দেশে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু চারটি রুট ছাড়া বাকি রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা যেতেও পারছে না। আমরা আসলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেবল বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলেই কথা বলতে পারি।’ সবুজ যোগ করেন, ‘লিগ যদি আর না হয় তাদের চুক্তি অনুযায়ী পুরো মৌসুমের বেতন দেওয়াটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। কারণ লিগ না হলে কেউ ক্লাবকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে না। ফলে এখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ প্রতি মাসে পাঁচ বিদেশির জন্য আমাদের ১৫ হাজার ডলার গুনতে হয়।’

চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার আরমান আজিজ বলেন, ‘পাঁচজন বিদেশির বেতন এবং আবাসনের জন্য মাসে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়। ক্লাবের নিজস্ব কোনো আয় নেই। ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তরফদার মো. রুহুল আমিন এই টাকার জোগান দেন। অর্থনৈতিক মন্দার সময় বিদেশিদের পেছনে এত টাকা খরচ করা কঠিন। সেটা যদি হয় তাদের বসিয়ে রেখে, তাহলে তো কথাই নেই।’

বসুন্ধরা কিংসের জন্য ভিনদেশি বাবদ খরচটা সবচেয়ে বেশি। তাই আক্ষেপ ঝরল ক্লাবটির সভাপতি ইমরুল হাসানের কণ্ঠে, ‘বিদেশিদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম। লিগ তিন-চার মাস বন্ধ থাকলে তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হবে। সেটা মাসে প্রায় কোটি টাকা। মাসে মাসে টাকা জলে ফেলার মতো অবস্থা। আবার কেউ বেতন না পেয়ে এএফসির কাছে নালিশ করলে গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা।’ শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের ফুটবল দলটি চলে বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায়। করোনার থাবায় দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের নাজুক অবস্থার কারণে ভিনদেশিদের পেছনে বিপুল ব্যয় নিয়ে তাই চিন্তায় ক্লাবটির কর্তারা। ফুটবল কমিটির কর্মকর্তা ও সাবেক তারকা আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‘বেতন, ফ্ল্যাটভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসে প্রায় ৪০ টাকা প্রয়োজন হয় বিদেশিদের জন্য। খেলা না হলে এটা বাড়তি চাপে রূপ নেয়। খেলা কতদিন বন্ধ থাকবে সেটা আমরা কেউ জানি না। বিদেশিদের বেতন ইস্যুতে বাফুফেকে অনুরোধ করেছি একটা সমাধানের রাস্তা বের করে দিতে।’

বিদেশিদের বেতন নিয়ে সমস্যাটা অবশ্য কেবল বাংলাদেশে নয়। গোটা ফুটবল বিশ্বই এ নিয়ে অনিশ্চয়তায়। বিশ্বের বেশ ক’টি স্বীকৃত লিগের বিদেশি ফুটবলারদের বেতন কর্তন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ফিফা-এএফসি’ও একটা সন্তোষজনক সমাধানের পথ খুঁজছে। করোনা আসলে মারাত্মক দাগ কেটে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়ায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত