করোনা লড়াইয়ে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ০১:৫৪ এএম

বিঘ্নিত হচ্ছে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন। বেশিরভাগ দোকান ও শোরুমও বন্ধ। বন্ধ বেচাবিক্রিও। এই অবস্থায় ডিজাইনার, নামিদামি ব্র্যান্ড ও ফ্যাশনজগতের জায়ান্টদের নিজেদের কাজ থেমে গেছে বললেই চলে। তবে বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কাবু হওয়ার পথে তখন তারাও উদ্যোগী হলেন উপদ্রুত দেশগুলোতে মাস্ক, পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ও ভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় নানান উপকরণের ঘাটতি মেটাতে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভাইরাস উপদ্রুত অঙ্গরাজ্য নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর এক আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক কোম্পানিই তাদের উৎপাদনের ধরন বদলে, সেলাই কর্মী ও অব্যবহৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় উপকরণ বানানোর ঘোষণা দিয়েছে।

কুমোর ডাকে সাড়া দেওয়া প্রথম ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘প্রজেক্ট রানওয়ে’র অ্যালামনাই ক্রিস্টিয়ান সিরিয়ানো। তিনি বলেছেন, যদি নিউ ইয়র্কের গভর্নর কুমো মাস্কের দরকারের কথা বলে থাকেন, আমার দল কিছু বানাতে পারে। বাসা থেকে কাজ করা সেলাইকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ দল আছে আমার, যারা সাহায্য করতে পারে।

নেপালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজাইনার প্রবাল গুরুং তার প্রতিষ্ঠানের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পিপিই বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন; লেডি গাগা ও মিশেল ওবামার মতো সেলিব্রেটিদের পোশাক বানিয়ে খ্যাতি অর্জন করা ডিজাইনার ব্র্যান্ডন ম্যাক্সওয়েল বানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য গাউন।

সুপরিচিত সুইমওয়্যার ব্র্যান্ড কার্লা তাদের ভার্জিনিয়ার কারখানাকে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় উপকরণ বানাতে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস অ্যাপারেলস তাদের সাড়ে চারশোর বেশি কর্মীকে মাস্ক বানানোর কাজে নামিয়ে দিয়েছে। অ্যাপ্রন ও রাঁধুনিদের বিশেষ পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হেডলি অ্যান্ড বেনেটও চাঁদা তুলে কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের কাতারে থাকা কর্মীদের জন্য মাস্ক উৎপাদন শুরু করেছে।

ইউরোপের দুই ফ্যাশন জায়ান্ট এইচঅ্যান্ডএম ও ইনডিটেক্স চিকিৎসা খাতে ব্যবহারের জন্য এ পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট বিপুল পরিমাণ উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। ফরাসি প্রতিষ্ঠান কেরিং বলেছে, তাদের দুটি ব্র্যান্ড বালেনসিয়াগা ও ইউভস সেইন্ট লরেন্ট কভিড-১৯-এর মাস্ক বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেরিং ফরাসি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৩০ লাখ চীনা মাস্ক জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড গুচি ১১ লাখ মাস্ক ও ৫৫ হাজার গাউন ইতালিতে সরবরাহের চেষ্টা করছে।

আরেক ফ্যাশন জায়ান্ট এলভিএমএইচ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে চীন থেকে ৪ কোটি মাস্ক জোগাড়ের চেষ্টা করছে।

ইতালির প্রাডা বলেছে, তারা তুসকানি অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষের অনুরোধে ৮০ হাজার মেডিকেল গাউন ও ১ লাখ ১০ হাজার ফেইস মাস্কের উৎপাদন শুরু করেছে। টেক্সটাইল কোম্পানি মিরোগ্লিও গ্রুপ গত সপ্তাহে জরুরি বিভাগের কর্মী, এনজিও কর্মী ও সাংবাদিকদের জন্য ধোয়া যায় এমন সুতি ও ইলাস্টেনের ১০ হাজার মাস্ক সরবরাহ করেছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি তারা এ রকম আরও ৬ লাখ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েছে।

কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের সব মাস্কই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী এন-৯৫ মাস্কের মতো কার্যকরী নয়; যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ঘাটতির এ সময়ে নাক-মুখ ঢাকতে সক্ষম এমন যেকোনো মাস্কেই কাজ চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত