বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির পরের দিন দলীয় কার্যালয় ছাড়লেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। টানা ৭৮৭ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মোহাম্মদপুর শ্যামলীর আদাবর ঢাকা হাউজিং সোসাইটির ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি। এখন থেকে দলীয় প্রয়োজনে যতটুকু দরকার ততটুকু সময় কার্যালয়ে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন রিজভী।
কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘যখন রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল শুরু হয়েছিল তখন থেকেই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেছি। দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার আর হয়রানির মধ্যে কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে দলীয় কর্মকা- পরিচালনা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন থেকেই আমার একটা ব্রত ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করব। কারণ সারা দেশের নেতাকর্মীরা যেন তাদের রাজনৈতিক কোনো কাজের জন্য দলীয় কার্যালয়ে এসে বিমুখ না হন। সব কিছু বিবেচনা নিয়েই আমি এখানে অবস্থান করেছি। যে ব্রত ছিল দেশনেত্রীর মুক্তি পরে আমি বাসায় ফিরব। গত বুধবার খালেদা জিয়া মুক্ত হয়েছেন। সেজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজকে বাসায় ফিরে যাব।’
নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২ বছর ১ মাস ২৬ দিন অবস্থানকালে রিজভী তৃতীয় তলায় দপ্তরের একটি ছোট্ট কক্ষে থাকতেন। এই দীর্ঘ সময়কালে তার যেসব বইপত্র ছিল তা কয়েকটি বস্তায় ভরে নিজের ছোট গাড়িতে তুলে মোহাম্মদপুরের শ্যামলীর আদাবর বাসায় নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন রুহুল কবির রিজভী। এই অফিসে রাত-দিন অবস্থান করে তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে দলের প্রতিক্রিয়া ও নির্দেশাবলি তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের কাছে।
এই কার্যালয় থেকে রিজভী বিভিন্ন সময়ে পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। এ রকম মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে দুই দফা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। পরে আবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এই কার্যালয়েই চলে এসেছেন।
তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সংবাদপত্রে রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রবন্ধও লিখেছেন। ওইসব প্রবন্ধের সংকলনে ‘সময়ের স্বরলিপি’ গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। রিজভীর এই দীর্ঘ সময়ের অবস্থানকালে মাঝেমধ্যে তার সহধর্মিণী আনজুমান আরা আইভি কার্যালয়ে এসে কিছু সময় স্বামীর দেখভাল করতেন।
