করোনাভাইরাস শনাক্তে কম টেস্ট করা নিয়ে ভারত ইতিমধ্যেই সমালোচনার শিকার হয়েছে। কিন্তু সেই নেতিবাচক সমলোচনা এবার ইতিবাচক আলোচনায় রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে এক নারী ভাইরাস বিশেষজ্ঞের কারণে। মিনাল দাখভে ভোঁসলে নামের ওই বিশেষজ্ঞের চেষ্টায় করোনাভাইরাসের শনাক্তে কিট উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চেষ্টাকে আরও এগিয়ে দিয়েছেন।
ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মিনাল দাখভে ভোঁসলের নেতৃত্বেই মূলত একদল গবেষক মাত্র দেড় মাস সময়ের মধ্যে কিটটির উদ্ভাবন করেছেন। এমন একটি কিট তৈরিতে অন্য দেশগুলোর গবেষকরা তিন থেকে চার মাস সময় নিয়েছেন। কিটটির বিস্তারিত তিনি ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (এনআইভি) জমা দেন মার্চের ১৮ তারিখে। এর একদিন পরেই তিনি মেয়ের মা হন। মিনাল দাখভে ভোঁসলে মহারাষ্ট্রের পুনের মাইল্যাব ডিসকভারির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান।
বিবিসি জানিয়েছে, মাইল্যাব প্রথম ভারতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য কিট বানিয়ে বাজারজাত করার অনুমতি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তাদের কিট বাজারে পৌঁছে গেছে। প্রথম চালানে প্রতিষ্ঠানটি পুনে, মুম্বাই, দিল্লি, গোয়া ও বেঙ্গালুরুতে ১৫০টি কিট পাঠিয়েছে।
মাইল্যাবের চিকিৎসাবিষয়ক পরিচালক গৌতম ওংকারে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি ও সি এবং অন্যান্য অসুখের পরীক্ষার জন্য কিট বানিয়ে থাকে। তারা এক সপ্তাহে এক লাখ কিট সরবরাহ করতে পারবে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহে দুই লাখ কিট দেওয়ার সক্ষমতা তাদের আছে।
গৌতম ওংকারে আরও জানান, মাইল্যাবের একেকটি কিট দিয়ে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। প্রত্যেকটি কিটের দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ রুপি। ভারত এমন প্রত্যেকটি কিট বিদেশ থেকে ৪ হাজার ৫০০ রুপি দিয়ে কিনেছে। সেই হিসেবে মাইল্যাবের কিট সাশ্রয়ী।
বিজ্ঞানী মিনাল ভোঁসলে বলেন, আমদানি করা কিটগুলো দিয়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করে ফল পেতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগছে। তাদের কিট দিয়ে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব।
