পুরো বিশ্ব যেখানে করোনাভাইরাসের ভয়ে জবুথবু, সবাই যেখানে ঘরবন্দি সেখানে বেলারুশ ব্যতিক্রম। প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো উল্টো করোনাভাইরাসকে হুমকি দিচ্ছেন! তার দেশে করোনভাইরাসের কারণে জনজীবনে কোনোরকম পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই চলছে দেশ, পাশাপাশি চলছে দেশটির ফুটবল লিগও। সম্ভবত বেলারুশের ফুটবল লিগ-ই এখন পর্যন্ত একমাত্র চলমান ফুটবল লিগ। অথচ ইউরোপের এই দেশটিতে ১০০ জনের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু স্বস্তির খবর মৃত্যু হয়নি কারও।
করোনার কারণে দেশকে বন্ধ করে অর্থনীতি থামিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো। এ পথে তিনি হাঁটবেন না বলে জানান। উল্টো মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শনিবার দেশের একটি আইস হকি প্রীতি ম্যাচে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন গ্যালারিতে। ম্যাচ দেখে প্রেসিডেন্ট জানান, ‘হাঁটু গেড়ে ভয়ে মারা যাওয়ার চেয়ে মাথা উঁচু করে সম্মানের মৃত্যু অনেক ভালো।’
বেলারুশের সীমান্ত ঘিরে আছে রাশিয়া, ইউক্রেন, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও পোল্যান্ড। স্বভাবতই আর সব ইউরোপিয়ান দেশের মতো করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে দেশটি। কিন্তু ২৬ বছর ধরে ক্ষমতাসীন লুকাশেঙ্কো মোটেও ভিত নন। দেশের মানুষকে মাটিতে থেকেই কাজ করে যাওয়ার আদেশ দিয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বে যে ভয় চলছে সেটাতে তিনি ‘মনোব্যাধি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাই অন্যান্য দেশের মতো লকডাউনে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে তিনি নেই।
তাই চলছে বেলারুশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। বেলারুশের সেরা দুটি ক্লাব বাটে বরিসোভ এবং দিনামো মিনস্ক ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতায় নিয়মিতই খেলে। শনিবারের ম্যাচে দুর্বল স্লাভিয়া মোজির-এর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে জায়ান্ট বাটে বরিসোভ। এছাড়া রাজধানী মিনস্কে হয়ে গেল মিনস্ক ডার্বি। তাতে এফকে মিনস্ক ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারিয়েছে অপর জায়ান্ট দিনামো মিনস্ককে। ম্যাচটি বেলারুশে তো বটেই রাশিয়ান টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করে। এফকে মিনস্কের সমর্থকরা জয়ের উত্তেজনায় খালি গায়ে উৎসব করতে করতে মাঠ স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। তবে বাকি সব দেশের মতো দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে। কোনো ব্যক্তির করোনাভাইরাস হলে বা সেই রকম লক্ষণ দেখা দিলে তারা আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করছে।
