হোম কোয়ারেন্টাইনে ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১০:২৫ পিএম

করোনা আক্রান্ত অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও দ্বিতীয় স্তর অতিক্রম করে

তৃতীয় স্তরের দিকে ধাবমান হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন লকডাউন বা ঘরবন্দি সময় পার করছে। ফলে রাস্তাঘাটে এখন সুনসান নীরবতা। চিরচেনা শহরগুলো যেন হয়ে উঠেছে অচেনা। করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকার জন্য যে যা করতে বলছে, তাই করে যাচ্ছে।

এই সংকট মুহূর্তে একশ্রেণির প্রতারক ধর্মের নামে ছড়িয়ে যাচ্ছে নানা মিথ্যাচার। তাদের এই মিথ্যাচারের জন্য অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাই আসুন বিভ্রান্ত না হয়ে এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইসলাম যে দিকনির্দেশনা দিয়েছে, তা আমল করার চেষ্টা করি। ধৈর্য ও নেক আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫)

করোনাভাইরাসের এই সংকট মুহূর্তে সবার উচিত, নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে তওবা করা। নিজ নিজ অবস্থান থেকে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। পাশাপাশি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলা। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা সচেতনতামূলক যে বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে, এর একটি হচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীরা যেন ঘর থেকে বের না হয়। যারা সুস্থ আছেন, তারা রোগীদের সংস্পর্শে না আসে।

হোম কোয়ারেন্টাইন ও হাদিসের নির্দেশনা : আপাতদৃষ্টিতে এটি খারাপ লাগলেও বৃহত্তম স্বার্থের জন্য বা অন্য মানুষগুলো যেন ভালো থাকে সেদিকটি বিবেচনা করে এটিই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ইসলামেও সে কথা বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, ‘কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে, সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০৬৫)

আর এই আমলটিকেই বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’, যা রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ইসলাম কল্যাণের ও মানবতার ধর্ম। তাই মানুষের ক্ষতি হোক এমন কোনো বিধান ইসলাম আরোপ করেনি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের ওপর সংকট আরোপ করেননি।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭৮)

মানুষের ক্ষতি হবে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। আর এ জন্য রয়েছে মহামূল্যবান পুরস্কার। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, আমি একবার রাসুল (সা.)-কে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। উত্তরে তিনি বলেন, ‘মহামারী হলো আজাব। যাদের ওপর ইচ্ছা, আল্লাহ এ আজাব পাঠান। পরিশেষে তা ইমানদারদের জন্য রহমত বানিয়ে দেন এভাবে যে, কোনো বান্দা যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং নিজ বাড়িতে ধৈর্যসহকারে, পুণ্যের নিয়তে এ বিশ^াস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহতায়ালা তকদিরে যা চূড়ান্ত রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আক্রান্ত করবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহীদের সওয়াব।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৬১৮২)

হোম কোয়ারেন্টাইনে ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ : যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন, তাদের জন্য এ সময়টা হতে পারে ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ। এ সময় যেহেতু পরিবার পরিজন থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে, সেহেতু সময়টাকে কাজে লাগাতে পারেন নফল ইতিকাফের মাধ্যমে। আর ইতিকাফ এমনই একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে মানবজীবন হয় ফেরেশতাসদৃশ। ইতিকাফ আপনার কলুষিত জীবনকে পরিশুদ্ধ করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে দেবে। গড়ে তুলবে এক ঐশ^রিক প্রেমের সেতুবন্ধ। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহতায়ালা তার এবং জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।’ (শুয়াবুল ইমান : ৩/৪২৫, হাদিস : ৩৯৬৫)

তাই জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে গুজবে কান না দিয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক আমল করি। হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলি। ঘর থেকে বেরিয়ে অন্যের কষ্টের কারণ না হই। সঙ্গে পাপের পাল্লাও ভারী না করি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা মুমিনদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৮)

আমাদের সব অপরাধ ক্ষমা করে দিয়ে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীকে আবার শান্ত-সুস্থ ও মানুষের বসবাসযোগ্য করে দিন এই আমাদের প্রার্থনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত