‘পরীক্ষা না হলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকানো যাবে না’

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ১২:৫২ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য জেলা পর্যায়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকানো যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকারের উদ্যোগ ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলায় জেলায় করোনাভাইরাস সন্দেহে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মৃত্যুর পর যেসব বাসাবাড়ির সদস্য মারা যাচ্ছেন তাদের বাসাবাড়ি লকডাউন করা হচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তব অবস্থা স্বীকার করা হচ্ছে না। এ কারণে জনগণ সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ছে।

‘প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের কার্যক্রম নামমাত্র’ দাবি করে মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের উদ্যোগ ‘ড্রপ ইন এ ওশান’ বা সমুদ্রে বিন্দুজল। করোনাভাইরাসের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে দেশের জনগণ তার ওপর আস্থা রাখতে

পারছে না। কারণ অনেকেই হটলাইনে যোগাযোগ করে সাড়া পাচ্ছেন না। পরীক্ষা করাতে পারছেন না। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব,  রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর) পরীক্ষা না করে কীভাবে বলে করোনাভাইরাসের রোগী নেই।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পাশাপাশি ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়েও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। জীবাণুনাশক স্প্রের পাশাপাশি মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে পর্যাপ্ত।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আইইডিসিআর গত ৮ মার্চ দেশে তিনজনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করে। এরপর গতকাল ২৯ মার্চ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি সরকার। আর এ কারণে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেছে আইইডিসিআর। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে বক্তব্য আসছে তাতে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। জনগণকে সচেতন করতে পারেনি এবং বিদেশফেরতদের পরীক্ষা করতে পারেনি।

তিনি বলেন, বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, করোনা সংক্রমণ রোধে পরীক্ষা, পরীক্ষা ও পরীক্ষা। করোনা সংক্রমণরোধে যেসব দেশ সফল হয়েছে তাদের গৃহীত কার্যক্রমের পেছনে ছিল পরীক্ষা। সর্দি, কাশি ও জ¦র নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে গেছেন তাদের পরীক্ষা করে তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এতে করে তারা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে পেরেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ করোনা সংক্রমণ নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন তাদের সবার পরীক্ষা করা হচ্ছে না। পরীক্ষা করার পর্যাপ্ত কিট সরকারের হাতে নেই। এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে দেশের জনগণ। তাছাড়া ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় আজ তারাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে করে ডাক্তারদের মধ্যে ভীতি বাড়বে। ডাক্তারদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তারা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। জোর করে তাদের কাজে লাগানো যাবে না।

আইইডিসিআরের সমালোচনা করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষা করছে। এই প্রতিষ্ঠান এক হাজার সাতষট্টি জনের পরীক্ষা করেছে। আসলে অনেকেই তাদের হটলাইনে সাড়া পাচ্ছেন না। এমনটা আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি। তাদের এই পরীক্ষার হার খুবই সামান্য। এটাই সবচেয়ে বড় ভীতির কারণ।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সীমিত আকারে শুরু হলেও তা এখনো বিস্তার লাভ করেনি বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটা দুটো জায়গায় সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি জায়গায় আমরা সংক্রমণের উৎস খুঁজে পাইনি, তাই সেই জায়গাটিকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে নজরদারি কার্যক্রম চালিয়েছি এবং এখনো চালাচ্ছি।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকাতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিদেশ থেকে সাড়ে ৬ লাখ প্রবাসী দেশে এসেছেন। বিমানবন্দরে তাদের যথাযথ স্ক্রিনিং হয়নি। তারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় লাখ লাখ মানুষ লঞ্চ, ট্রেন, বাসে করে ঢাকা ছেড়েছেন। এতে করে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বাড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে দেশ। করোনাভাইরাসের পরীক্ষা জেলা পর্যায়ে করা না হলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকানো যাবে না। ফলস্বরূপ সারা দেশে মহামারী আকার ধারণ করতে পারে এই ভাইরাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত