বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮২টি কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন ক্রেতারা। যেখানে অর্ডার ছিল ৯৩২ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন পিস পোশাকের, যার মূল্য ২৯৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে আশার কথা হলো খ্যাতনামা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তারা তাদের বিদ্যমান ক্রয়াদেশ বহাল রাখছে। যেমন এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, পিভিএইচ, টার্গেট এবং কিয়াবির মতো প্রতিষ্ঠান। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য দেয় তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
সংগঠনটি জানায়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ থাকায় একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন ক্রেতারা। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮২টি কারখানা থেকে এ ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে যেখানে কাজ করেন ২১ লাখের বেশি শ্রমিক। তবে আশার কথা হলো খ্যাতনামা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তারা তাদের বিদ্যমান ক্রয়াদেশ বহাল রাখছে। শিপমেন্টের অপেক্ষায় থাকা পণ্য নেওয়ার ব্যাপারেও তারা ইতিবাচক ভূমিকা দেখিয়েছে। ক্রেতাদের এমন সিদ্ধান্তের ফলে করোনার প্রভাবে যে ৩০০ কোটি ডলারের পোশাক ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিলের কথা বলা হচ্ছিল, এখন সেই পরিমাণ কমে আসবে।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গতকাল বলেনÑ এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, পিভিএইচ, টার্গেট এবং কিয়াবির মতো ক্রেতারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের ক্রয়াদেশ বহাল রাখার কথা জানিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সিঅ্যান্ডএম আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি বলেন, কেউ কেউ স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদার পিপিই দেওয়ার জন্য তাদের এক দিনের বেতন ডোনেট করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা আশা করি দীর্ঘকাল ধরে যারা আমাদের সঙ্গে আছেন, কঠিন এই দুঃসময়ে তারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আশা করি অর্থ প্রদানে তাদের শর্তগুলো এই সময়ে শিথিল থাকবে। এদিকে সুইডেনের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের অর্ডারগুলো বহাল রাখবে।
বিৃতিতে বলা হয়, আমরা যেসব তৈরি পোশাক কারখানাকে পণ্য ক্রয়ের অর্ডার দিয়েছিলাম, সেগুলো বাতিল হচ্ছে না। আমরা আমাদের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করব। অর্ডারগুলোর ডেলিভারি নেব। বাংলাদেশ থেকে সুইডিশ এই প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক কিনে থাকে। একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক জানান, করোনার কারণে পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশ থেকে ক্রেতারা তাদের সব ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আপাতত বাতিল করছে। আমরা তাদের কাছে জানিয়েছি আমাদের এ দুঃসময়ে তারা যেন পাশে থাকে। তিনি জানান, বাতিল হয়ে যাওয়া ক্রয়াদেশগুলো ফিরে পেতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
