করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বেশি বেশি করে টেস্ট (পরীক্ষা) করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘যারা সন্দেহজনক অবস্থায় আছেন তারা পরীক্ষা করিয়ে নিন। নিজেরা ভালো থাকুন, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন। কারণ টেস্ট (পরীক্ষা) ছাড়া কিন্তু আমরা বুঝতে পারব না। সুতরাং আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা বেশি বেশি করে টেস্ট করুন, নিজেরা সুরক্ষিত থাকুন।’গতকাল বুধবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় নমুনা পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করছি। ইতিমধ্যে ঢাকায় আইইডিসিআর ছাড়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ), শিশু হাসপাতালে শুরু হয়েছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নমুনা পরীক্ষা চালু হবে। এছাড়া ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজও শিগগির নমুনা পরীক্ষা শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি মেডিকেল কলেজেই নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে। তিনি বলেন, শুধু নমুনা পরীক্ষার সুযোগ বাড়ালেই হবে না, জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ পরীক্ষা করুক। যারা সন্দেহজনক অবস্থায় আছেন তারা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে আইইডিসিআর বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে কেউ যাতে হাসপাতালে চলে না আসে, হটলাইনে কল করলে তারাই নির্ধারণ করে দেবে কাকে পরীক্ষা করতে হবে কাকে করতে হবে না। আইইডিসিআরের এই বক্তব্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান সাংঘর্ষিক কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আইইডিসিআর হলো এ বিষয়ে এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ)। আমি আগেই বলেছি, যারা অসুস্থ বোধ করবেন তারা আইইডিসিআরসহ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কল করবেন। সেখানের প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে জানিয়ে দেবেন। কাজেই তাদের নিজেদের তো আসার প্রয়োজন নেই।’
অনেকে সরকারি নির্দেশনা মানছেন না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা, পুরান ঢাকা, ঢাকার আশপাশে এবং বিভিন্ন জেলা ও ইউনিয়নগুলোতে লোকজন বাইরে ঘোরাফেরা করছেন, বাজারে ভিড় করছেন ও চায়ের দোকানে বসছেন। এটা মোটেই কাম্য নয়। বিশেষ করে যারা ঢাকা থেকে গ্রামে গেছেন, তারাই বেশি ঘোরাফেরা করছেন। আমি আহ্বান জানাব, আপনারা ঘোরাফেরা করবেন না, না হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাবে। আমরা দেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ডাক্তারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি যেসব হাসপাতাল ও ডাক্তাররা রয়েছেন, যারা ভালো সেবা দেন, তাদের চেম্বারগুলো অধিকাংশই বন্ধ আছে এবং হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসা স্তিমিত হয়ে পড়েছে বলে মানুষজন বলছেন। আমি আশা করি এই সময়ে আপনারা এগিয়ে আসবেন, দেশবাসীর পাশে থাকবেন।
এ সময় মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৫০০ ভেন্টিলেটর বসানোর কার্যক্রম চলছে। আমদানি করা হচ্ছে আরও ৩৫০ ভেন্টিলেটর। এছাড়া প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭০০ ভেন্টিলেটর আছে বলে জানান তিনি।
