ঝ্যাং গেল জানুয়ারিতে তার বয়স্ক বাবাকে নিয়ে যান উহানের একটি হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে তার বাবার একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির কয়েক দিনের মাথায় ঝ্যাংয়ের বাবা সংক্রমণে মারা যান। বাবার মৃত্যুতে হতাশ ও রাগান্বিত ঝ্যাং এখন সরকারের কাছে উত্তর দাবি করছে যে, উহান কর্র্তৃপক্ষ অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে মিথ্যে বলেছে।
ঝ্যাং শুধু একা নন, এমন আরও অনেকে আছেন। তিনি অনলাইনে এমন অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এবং কর্র্তৃপক্ষের ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় রাগান্বিত। এএফপিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ঝ্যাং নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করেননি। কারণ বিদেশি মিডিয়ার কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে সরকারের রোষানলে পড়তে পারেন তিনি এমন ভয় রয়েছে। তার ভাষ্য মতে, ‘আমি আসলে ভীত নই। আমি শুধু সত্যিটা জানার চেষ্টা করছি।’ তার বাবার মৃত্যুর কারণের ব্যাখ্যা চেয়ে উহান সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাননি।
উহানে দুই মাসের কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে শহরটির জনজীবন। কিন্তু মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত কিছু নাগরিক তাদের তিক্ততার জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাদের অনেকে অনলাইনে আবেগপূর্ণ স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তবে যারা তাদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন বা অনলাইনে মানুষকে জানাচ্ছেন, তারা ইতিমধ্যেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সন্দেহের মধ্যে রয়েছেন। খোদ কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধেই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
উহানের একটি বাজার থেকে রহস্যময় করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। স্থানীয় কর্মকর্তারা ভাইরাসটির প্রকোপতা গোপন করার চেষ্টা করেন নববর্ষ উদযাপনের জন্য। কিন্তু অনেক দ্রুত ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করলে উহানের কর্মকর্তারা মুখ খুলতে বাধ্য হন। জানুয়ারির মাঝামাঝি উহান হাসপাতালে ঝ্যাংয়ের বাবার অস্ত্রোপচার হওয়ার পর কয়েক দিনের মাথায় জ¦র হয় ও খাবারের রুচি চলে যায়। তখন তাকে কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে ঝ্যাং বলেন, ‘আমার খুব অপরাধবোধ হয়। কারণ উহান হাসপাতালে পাঠিয়েই আমি আমার বাবাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছি।’ উহানের হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ ঝ্যাংয়ের বাবার মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা না করেই মৃতের পরিবারকে না জানিয়েই লাশ সৎকার করে দেয়, যা আরও সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় ঝ্যাংয়ের মনে।
উহানের এক বাসিন্দা বলেন, ‘এমন প্লেগের কারণে কত পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে তার কোনো হিসাব আছে কি? কত দুর্ভাগা সাধারণ মানুষ ভাইরাসে জীবন হারিয়েছেন তার কোনো সংখ্যা আছে? বিদায় বলার সুযোগ পর্যন্ত ছিল না। অনেকেই সুস্থ ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি তারা নেই। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ হলো অপরাধী।’ মৃতের সংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ শুরু হয় গত মার্চ মাসের গোড়াতেই, যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট সুন চুনলান উহান সফরে যান। ওই সময় উহান ও হুবেই প্রদেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে বাস্তবিক অবস্থা নির্ণয়ে চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত না হওয়াতেই অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।
