ইতালির বাসিন্দা সিলভিয়া বার্তুলেত্তি। টানা ১১ দিন ফোন করেও বৃদ্ধ বাবাকে বাসায় এসে দেখার জন্য কোনো চিকিৎসক পাননি। সিলভিয়ার ৭৮ বছর বয়সী বাবা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ১১ দিন পর যখন একজন চিকিৎসক সিলভিয়ার বাসায় যান, তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আলেসান্দ্রে বার্তুলেত্তি ১৯ মার্চ দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে মারা যান। মৃত্যুর ১০ মিনিট আগে অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সিলভিয়ার ভাষায়, ‘সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় মারা গেলেন আমার বাবা। কেউ সাহায্য করার ছিল না। আমরা স্রেফ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলাম। এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়।’
ইতালির লম্বার্দি অঞ্চলের চিকিৎসক, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে এএফপির সাংবাদিকরা কথা বলে এক অবর্ণনীয় অবস্থার কথা জানতে পেরেছেন। হাসপাতালের বাইরেও অনেক মানুষ বাসাবাড়িতে মারা যাচ্ছেন, যাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর বাসাবাড়িতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা ঠিক কী কারণে মারা যাচ্ছেন, পরীক্ষার অভাবে তাও অজানা থাকছে।
বার্গামো অঞ্চলে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ২ হাজার ৬০ জন। কিন্তু এক গবেষণা বলছে, অঞ্চলটিতে সত্যিকারের মৃত্যু দ্বিগুণেরও বেশি। কারণ সরকারি পর্যায়ে যে মৃত্যুর তালিকা দেওয়া হচ্ছে, তা শুধু হাসপাতালের। বাইরের মৃত্যুর তালিকা সরকার নেয় না।
বিশে^র অধিকাংশ দেশেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে পর্যাপ্ত উপকরণ দরকার, তার তীব্র সংকট রয়েছে। ইতালির কিছু চিকিৎসক বলছেন, চিকিৎসাব্যবস্থা এতটাই ব্যয়বহুল এবং চিকিৎসকদের সংখ্যা কম হওয়ায় অসুস্থদের বাড়িতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর্মী রিকার্ডো মুন্ডার মতে, ‘অনেক পরিবারের কাছেই সপ্তাহেরও বেশি সময়ে চিকিৎসকরা যেতে পারছেন না। এ জন্য তাদের দোষ দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ চিকিৎসকরা নিজেদের বাঁচানোর বাইরে হাসপাতালেই অধিকাংশ সময় দিচ্ছেন।’ বাসায় যদি চিকিৎসকরা যেতে পারতেন, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমানো যেত বলেও মনে করেন তিনি।
লম্বার্দির চিকিৎসাসেবা বিশ্বমানের। কিন্তু করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসকদের পক্ষে বাসাবাড়িতে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা ফোনেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফোনে রোগের উপসর্গ শুনেই তারা পথ্য দিচ্ছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় সম্প্রতি ইতালির স্বাস্থ্য বিভাগ উপদ্রুত অঞ্চলে আরও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী পাঠাতে শুরু করেছে।
