বেশিরভাগ চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১২:৪১ এএম

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও রোগী ভর্তি থাকত এর বেশি। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কয়েক দিনের ব্যবধানে রোগী ভর্তি কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। গত এক সপ্তাহে এ হাসপাতালে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কমেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও। রাস্তাঘাট ফাঁকা, নেই চায়ের দোকানের আড্ডা বা কর্মব্যস্ততা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা আতঙ্কে গাজীপুর নগরে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভিড় নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ হয়ে গেছে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের পাশাপাশি রোগী কমেছে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতেও। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের রোগী ভর্তির হিসাব অনুযায়ী রোগী কমেছে প্রায় ৪ ভাগের ৩ ভাগ। যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৫০০ থেকে ৫২০ জন রোগী ভর্তি থাকত, সেখানে গত শনিবার রোগী ভর্তি ছিল প্রায় ৮০ জন। গত ২১ মার্চ থেকে প্রতিদিন দ্রুতগতিতে রোগী কমেছে। ওইদিন ছিল ২২৯, ২২ মার্চ ১৬০, ২৩ মার্চ ১০৬, ২৪ মার্চ ৮৪, ২৫ মার্চ ৬৭, ২৬ মার্চ ৭৪, ২৭ মার্চ ৬৯, ২৮ মার্চ ৮০, ৫ এপ্রিল ভর্তি ছিল প্রায় ৮০ জন রোগী।

সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কমেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালটির বহির্বিভাগে সেবা নেন ১৬২২ জন। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে গত শনিবার বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন প্রায় ৯০ জন। অনেকের অভিযোগ, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। আবার করোনা আতঙ্কের কারণে ছোটখাটো অসুখে হাসপাতালমুখী হচ্ছেন না রোগীরা। আর তাই কমছে হাসপাতালে সেবাপ্রত্যাশীর সংখ্যা।

এদিকে করোনা আতঙ্কে বন্ধ রয়েছে গাজীপুরের বেশির ভাগ ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বার। রোগী থেকে করোনা সংক্রমণের ভয়েই ডাক্তাররা তাদের চেম্বার বন্ধ রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। গত সোমবার বিকেলে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছু কিছু ফার্মেসি আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা থাকলেও ডাক্তার না থাকায় নেই রোগীর ভিড়।

হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করছেন গাজীপুরের ছোট দেওড়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন। কী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের মেয়ের কয়েক দিন ধরে কাশি হচ্ছে। আজ থেকে আবার শ^াসকষ্ট শুরু হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক না দেখেই ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন। তাই নিয়ে যাচ্ছি।’

অন্য সময় হাসপাতালের বাইরে ও ভেতরে সবসময় লেগে থাকত রোগী ও স্বজনদের জটলা। সেই চিরচেনা জটলা এখন আর নেই। হাসপাতালের একপাশে খোলা হয়েছে কারোনাভাইরাস আইসোলেশন কর্নার।

হাসপাতালের পরিচালক খলিলুর রহমান জানান, আইসোলেশন সেন্টারে গত সোমবার কোনো রোগীকে ভর্তি করা হয়নি। বর্তমানে আইসোলেশন সেন্টারে কোনো রোগী নেই।

৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে হঠাৎ করেই রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার ব্যাপারে হাসপাতালের উপপরিচালক তপন কান্তি সরকার বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে লোকজন আতঙ্কিত। এ ছাড়া বর্তমানে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ার কারণে খুব বড় কোনো সমস্যা বা রোগে আক্রান্ত না হলে কেউ হাসপাতালে আসছেন না। তাই রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক রকমের কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত