সন্তানের জন্য হলেও ঘরে থাকুন : ডিএমপি কমিশনার

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০১:৫৪ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও নগরবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করব, আপনার নিজের জীবনের মায়া না থাক। আপনার তো সন্তানের মায়া আছে, পরিবারের মায়া আছে। এখনো সময় আছে, দয়া করে তাদের জন্য অন্তত ঘরে থাকুন। তাছাড়া পরিস্থিতি এমন জায়গায় যাবে, তখন আর কারও কিছু করার থাকবে না।’ গতকাল মঙ্গলবার বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া ৫০ হাজার ফেইস মাস্ক গ্রহণের পর ডিএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে নগরবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন রাজধানীর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ফিল্ডে তো আমাদের সঙ্গে আপনারাও আছেন। মানুষের আচরণটা কী সেটা কিন্তু আপনারাও দেখছেন। এখন মনে হচ্ছে যে, দায়টা একেবারেই সরকারের, একেবারেই সেনাবাহিনীর, একেবারেই পুলিশের। মানুষকে ঘরে রাখার। মাঝখানে একটু আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলাম। কিছু মানুষ আছে যারা পুলিশের নির্দেশনা মানছিলেন না। কিছু জায়গায় আমাদের সদস্যরা মিস বিহেভ করেছে। এ কারণে এমনভাবে সমালোচনা ও এমনভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু হলো। ফিল্ডে যারা কাজ করছিলেন তারা আসলে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।’

সমালোচনা ও লেখালেখির কারণে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা মাঝখানে আইন প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখিয়েছিলেন এমনটা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘অনেক কর্মকর্তা ভাবতে লাগলেন, আমি মানুষকে নিষেধ করব, দেখা যাবে কোথাও আমার বিরুদ্ধে নালিশ হলো। তখন চাকরি থাকে কিনা, সাসপেন্ড হয়ে যাই কিনা। এসব কারণে কিছুদিন আমাদের সদস্যরা ভয়ে ছিলেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় আমাদের সদস্যরা যে বাড়াবাড়ি করেনি, সেটা বলব না। কিন্তু সরকার একটি নির্দেশনা জারি করেছে, সচেতন নাগরিক হিসেবে, এদেশের একজন ভালো মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত সেই নির্দেশনা মেনে চলা। আমার নিজের জন্য, আমার পরিবারের জন্য, দেশের জন্য। কিন্তু আমি বলতে পারি, আজ যদি পুলিশ তোলেন দেখবেন ঢাকা শহরে মানুষ ছাড়া কাউকে দেখবেন না। সবকিছু কি শক্তি প্রয়োগ করে সম্ভব। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘গুজব প্রতিরোধে সিআইডি, ডিবি ও সিটিটিসির সাইবার টিম কাজ করছে। কোথাও কোনো আপত্তিকর পোস্ট দেখলে কোথা থেকে আসছে তা আইডেনটিফাই করা হচ্ছে। তা না পারলে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার কাঁচাবাজারকে করোনাভাইরাসের অন্যতম বিস্তারক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রত্যেক মার্কেট সমিতির নেতাদের সঙ্গে ন্যূনতম একজন সহকারী কমিশনার দিয়ে সভা করিয়েছি। যাতে একটি দোকানে ভিড় না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করেন। কাঁচাবাজার যে রোগ বিস্তারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তা তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটা দোকানদারকে বলা হয়েছে, যাতে তার কাস্টমারদের ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়াতে বলেন। এখন কাঁচাবাজারের ভেতরের পরিবেশ এইরকম যে দুইটা দোকানের ভেতর যে রাস্তা সেটা প্রশস্ত না। কাঁচাবাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা গ্রহণ করুন। প্রতি মূহূর্তে পুলিশকে দিয়ে বাজারে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করা ডিফিকাল্ট।’

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে  ডিএমপি কমিশনারের কাছে ৫০ হাজার ফেইস মাস্ক হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর। মাস্ক হস্তান্তরের সময় সায়েম সোবহান আনভীর করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে এগিয়ে আসার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময়ই দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে আসছে। জাতির এই সংকট মুহূর্তে একইভাবে অন্যসব করপোরেট গ্রুপগুলোকেও বসুন্ধরা গ্রুপের মতো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত