রপ্তানি আদেশ বাতিল না করতে ৬ দেশের অনুরোধ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০২:৪০ এএম

করোনাভাইরাসের সময়ে ক্রায়াদেশ স্থগিত না করতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের তাদের কাছে দাবি জানিয়েছে এশিয়া অঞ্চলের ৬টি দেশের ৯টি পোশাক উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারক সংগঠন সাসটেইনেবল টেক্সটাইল অব এশিয়ান রিজিয়ন (স্টার নেটওয়ার্ক)। সংগঠনটি বলছে, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাপ্লাই চেইনে শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ের ওপর সব সম্ভাব্য প্রভাব সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে ক্রয় চুক্তির শর্তগুলোকে সম্মান ও দায়বদ্ধতাগুলো পালন করে মূল্য প্রদান করতে হবে। তা না হলে লাখ লাখ শ্রমিকের মৌলিক অধিকার এবং তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের ওপর এর ব্যাপক মাত্রায় প্রভাব ফেলবে।

গতকাল বুধবার তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বিজিএমইএ জানায়, এ যৌথ বিবৃতিতে সংকটময় সময়ে তৈরি পোশাক খাত বাঁচাতে ও পুনরুদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড খুচরা বিক্রি তাদের এবং ব্যবসায়ীদের কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। গত ৮ এপ্রিল এসব সংগঠনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপের সময়ে বিশ্বের গার্মেন্টস খাতের সংকট থেকে বাঁচতে ও পুনরুদ্ধার করতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার সময় এসেছে। বিশেষত বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল এবং পোশাক সরবরাহকারী চেইনের ব্র্যান্ড সংস্থাগুলো ও খুচরা বিক্রি তাদের। তা না হলে লাখ লাখ শ্রমিকের মৌলিক অধিকার এবং তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের ওপর এর ব্যাপক মাত্রায় প্রভাব ফেলবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, শ্রম অধিকার, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং টেকসই সরবরাহ চেইনের প্রতি বৈশ্বিক ব্যবসায়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সম্মান দেখানোর এখনই সময়। বিষয়টি মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, খুচরা বিক্রিতা এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি স্টার নেটওয়ার্ক সদস্যদের ৬টি উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারক দেশ থেকে ৯টি শীর্ষ টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সংগঠন এ আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম. পাকিস্তান, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া রয়েছে।

স্টার নেটওয়ার্কের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষ তৈরি পোশাকের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), চীনের চায়না ন্যাশনাল টেক্সটাইল এবং অ্যাপারেল কাউন্সিল (সিএনটিএসি), কম্বোডিয়ার গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (জিএমএসি), মিয়ানমার গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমজিএমএ), পাকিস্তান হোসিয়ারি গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিএইচএমএ), পাকিস্তান টেক্সটাইল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিটিইএ), তোয়ালে ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তান (টিএমএ) এবং ভিয়েতনাম টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ভিটাস)।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত গভীর সংকট পার করছে। একের পর এক পোশাক কারখানার ক্রায়াদেশ বাতিল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে এ খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। তাই কঠিন এ সংকটময় মুহূর্তে বায়ারদের μয়াদেশ স্থগিত না করার আহ্বান জানিয়েন পোশাক মালিকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত