শনিবার বসছে সংসদ অধিবেশন, সময়কাল হতে পারে ১ ঘণ্টা

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৪৪ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম ও রেকর্ড গড়ার অধিবেশন আগামী ১৮ এপ্রিল বসতে যাচ্ছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এই ব্যতিক্রমী অধিবেশনটি বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে ঘণ্টাব্যাপী চলতে পারে। করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিতে অধিবেশনের কোরাম পূরণের জন্য উপস্থিত থাকবেন ৬০ জন সংসদ সদস্য। তবে কোনো দর্শনার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী এতে উপস্থিত থাকছেন না।

সংবিধান অনুযায়ী, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে। চলতি সংসদের সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি।

এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘সংসদের সময় কতক্ষণ হবে তা কার্যউপদেষ্টা কমিটি ঠিক করবে। তবে আমি মনে করি,শনিবার বসছে রেকর্ডের অধিবেশন, সময়কাল হতে পারে ১ ঘণ্টা

নিয়ম রক্ষার অধিবেশন একদিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। করোনা ভাইরাসের কারণে সবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সংসদের অধিবেশনের সময় নির্ধারণ করা হবে। সবার নিরাপত্তার স্বার্থে অধিবেশন একদিনের বেশি হওয়া উচিত হবে না।’

সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশনের শেষ ও পরের অধিবেশন শুরুর মধ্যে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের এই বাধ্যবাধকতা মানতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অধিবেশন বসতে যাচ্ছে ।’

সংসদ সচিবালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন হবে। প্রথমত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা এই অধিবেশন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে ৩৫০ জন এমপিকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত করা কঠিন। তাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোরাম পূরণে যেন ৬০ জন এমপি উপস্থিত হন। বয়সে যারা প্রবীণ সেই সব সংসদ সদস্যের না আসার অনুরোধ করা হবে।’

সূত্র জানায়, এই অধিবেশনে সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর (পাবনা-২) মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। এর পরপরই রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক শেষ করে দেওয়া হবে। যেসব এমপি উপস্থিত থাকবেন তাদের তালিকা করে জানানো হয়েছে।

এর আগে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করলে সংসদ সচিবালয়ের প্রায় ১২শ কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে। তবে এবার কেবল যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন হবে তাদেরই থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এমপিদের বসার সিট প্ল্যানও করা হচ্ছে ব্যতিক্রম ভাবে। একজন এমপি থেকে আরেকজন এমপির মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে দুই বা তিন সিট পরপর একজন করে বসবেন। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অধিবেশনের মেয়াদ ও কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। এবারের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে ওই কমিটির বৈঠক। এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ বিরোধী দলের সদস্যরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত